নিজস্ব প্রতিবেদক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের রেজাল্ট বিলম্বকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন বিভাগের শিক্ষকরা। এরজন্য দায়ী করা হচ্ছে বিভাগের চেয়ারম্যান এবং একই সঙ্গে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল অদুদকে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিভাগের শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্স ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ফাইনাল রেজাল্ট বিলম্বিত হওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি এবং সদস্যদের মধ্যে উচ্চবাক্য বিনিময় হয়।
সূত্র থেকে জানা যায়, কমিটির সভাপতি উদাসীন থাকায় বিলম্বিত হচ্ছে রেজাল্ট। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি শিক্ষক নিয়োগে জটিলতা, নবীন বরণ এবং নীল দলের নির্বাচন ইত্যাদি নানা কারণে রেজাল্ট প্রদানে বিলম্ব করছেন। পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা সময় মতো রেজাল্ট সম্পাদন করার পরও তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠাতে এবং সংশোধনী করতে দেরি করছেন।
বিভাগের প্রভাষক এজিএম সাদিদ জাহান বলেন, ‘কন্ট্রোলার দপ্তরের কারিগরি ত্রুটি রেজাল্ট বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ।’
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘কন্ট্রোলারের কাজ হচ্ছে রেজাল্ট সমন্বয় করা, আর আমাদের কন্ট্রোলার শিক্ষকদের অর্ডার করেন।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, সভাপতির অদক্ষতা এবং তার শিক্ষক রাজনীতি নিয়ে অধিক সময় ব্যয় এই রেজাল্ট বিলম্বের জন্য অধিকাংশে দায়ী।
এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান এবং পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ড. আবদুল অদুদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘রেজাল্ট রেজাল্টের নিয়মেই হচ্ছে। বিভাগে কোনো সমস্যা নেই। আপনারা (সাংবাদিকরা) ভুল তথ্য পেয়েছেন।’
২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী লুৎফর রহমানের কাছ থেকে জানা যায়, তাদের মস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষার পর বিভাগীয় চেয়ারম্যান বলেছিলেন, রেজাল্ট তাদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন অডিটোরিয়ামের সামনে টানিয়ে দেয়া হবে। বিদায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে ২৮ মে আর এখন জুলাই মাস চলছে। তিনি জানান, গত ২৫ জুন তাদের রেজাল্ট দেয়ার কথা ছিল।
বিভাগের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জানান, রেজাল্ট প্রকাশে দেরি হওয়ায় তারা চাকরির কয়েকটি সার্কুলেশনে আবেদন করতে পারছেন না। সব সমস্যার জন্য তারাও বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অদুদকেই দায়ী করছেন।

