ঢাকাThursday , 2 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নতুন শুরুর অপেক্ষায় সোহাগ গাজী

Link Copied!

sohag-gazi-----স্পোর্টস ডেস্ক : বুধবার সকালে বাংলাদেশ দলের নেট সেশন চলছিল। জাতীয় দলের প্র্যাকটিস জার্সি পরে প্রায় সব ক্রিকেটারই সেখানে উপস্থিত। কেউ বল করছেন, আবার কেউ করছেন বল। কিন্তু কোথায় যেন একটুখানি খুঁত। সবার মাঝে একটা ভিন্ন কিছু যেন পরিলক্ষিত হচ্ছে।
হ্যাঁ, ছিলেন একজন। যার শরীরে নেই জাতীয় দলের প্র্যাকটিস জার্সি। বিপিএলে খেলা সাউথ জোনের জার্সি গায়ে নেটে মুমিনুল হককে এক মনে বল করে যাচ্ছেন। তিনি সোহাগ গাজী। গত বছর আগস্টে অবৈধ অ্যাকশনের কারণে যিনি নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। প্রায় ১০মাস পর জাতীয় দলের নেটে বল করার সুযোগ পেলেন তিনি। বল করে গেলেও নিজেকে এই দলের অংশ মনে করার কোন সুযোগই যেন নেই তার কাছে।
গাজী নিজেও ইএসপিএনের কাছে বলছিলেন, ‘দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার কারণে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। তবে সত্য কথা কি জানেন? দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলের নেটে বল করতে আসলাম এই টি-শার্ট (সাউথ জোনের) পরে। জাতীয় দলের জার্সিছাড়া নিজেকে কেমন বেমানান লাগছে এখানে। দেখুন সবার গায়ে জাতীয় দলের জার্সি। আর আমি পরে আছি ভিন্ন কিছু। যে কেউ এটা নিয়ে কিছু বলতে পারে আপনাকে। সুতরাং আমিও চাই, আবার এই জার্সিটা গায়ে জড়াতে।’
যখনই এই আকুলতা সোহাগ গাজীর কণ্ঠ থেকে ঝরে পড়ছিল, তখনও কিন্তু তিনি জানতেন না, আবারও জাতীয় দলের জার্সি তার গায়ে ওঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন নির্বাচক কমিটি। যখন তিনি কথা বলছিলেন ইএসপিএন ক্রিকইনফোর কাছে, তার কিছুক্ষণ পরই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজের জন্য ঘোষিত দলে ঠাঁই মিলে গেলো এই অফস্পিনারের।
গত বছর আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালীনই সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের জন্য অভিযুক্ত হন। এরপর ইংল্যান্ডের কার্ডিফে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়ে আসেন তিনি। গত বছর ৮ অক্টোবর আইসিসি থেকে বোলিং নিষিদ্ধ করা হয় সোহাগ গাজীর।
তবে ১৭ নভেম্বর থেকে পুনরায় ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অনুমতি মেলে সোহাগের। বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণার একমাস আগে দ্বিতীয় পরীক্ষা দিয়ে সন্দেহমুক্ত হয়ে গেলেও ওই স্কোয়াডে ঠাঁই মেলেনি তার। এরপর বাদ পড়েছেন পাকিস্তান এবং ভারত সিরিজ থেকেও। তবে বিশ্বকাপের আগেই, ৭ ফেব্রুয়ারি আইসিসি থেকে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ থেকে সোহাগ গাজী এবং পাকিস্তানের সাঈদ আজমলকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ক্রিকইনফোকে গাজী জানান, সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন ধরা পড়ার পর থেকে গত ১০ মাস যেন তার জন্য ছিল বেশ দুর্বিসহ। তবে এই সময় পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পূনরায় ফিরে আসার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য পরিবার এবং বন্ধু-শুভাকাংখিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
গাজী বলেন, ‘এটা ছিল সত্যি কঠিন একটি পরিস্থিতি। নিজের ধারণারও বাইরে থেকে দুর্দান্তভাবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সব কিছু থেমে গেলো। তবে আবার আমি ফিরে এসেছি। আমার পরিবারের সদস্যরা সব সময় আমাকে সাহস দিয়ে গেছেন। আর দুঃসময়ে যারা পাশে থাকে তারাই তো প্রকৃত বন্ধু।’
তবে সেরা একাদশে সুযোগ পাওয়া যে এখন কত কঠিন সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন গাজী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দল এখন যে অবস্থায় আছে, আর সবাই যেভাবে নিজ নিজ জায়গা থেকে পারফর্ম করছে- তাতে এই দলে প্রবেশ করা খুবই কঠিন। আমার মনে হচ্ছে- দ্বিতীয়বার নয় আমি নতুন ক্রিকেটার হিসেবেই দলে প্রবেশের অপেক্ষায় আছি।’
সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরেতে চান গাজী, ‘সুযোগ পেলে আমি নিজের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করবো এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিং করবো। গত টি২০ বিশ্বকাপেও খেলেছি। সুতরাং, এই ফরম্যাট সম্পর্কে আমার কিছু অভিজ্ঞতাও আছে।’
নিজের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে গাজী বলেন, ‘আমি মনে করি নতুন অ্যাকশন নিয়ে পুনরায় দলে ঠাঁই করে নেওয়া কঠিন। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জও বটে। আগের অ্যাকশনে নয়, নতুন অ্যাকশনেই আমি বোলিং করছি এখন। দীর্ঘ সময় ধরে যে অ্যাকশনে বোলিং করতাম, তাতে সামান্যই পরিবর্তণ আনতে হয়েছে। সেটা নিয়েই এখন আমাকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।’ গাজী শুধু হাতের অ্যাকশনই পায়ের পজিশন নিয়েও কাজ করেছেন এই সময়ের মধ্যে।