ঢাকাWednesday , 1 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গৌরব ও সমৃদ্ধির ৯৫ বছর

Link Copied!

DUনিজস্ব প্রতিবেদক : চারদিকে রঙিন আলোকচ্ছটা। উৎসবমুখর পুরো ক্যাম্পাস। রঙিন বৈদ্যুতিক আলোয় রাতের আবহ হয়ে উঠেছে অন্যরকম। পুরো ক্যাম্পাসে সাজসাজ রব। হঠাৎ করেই আগন্তুক কেউ থমকে দাঁড়িয়ে দেখছে চারপাশ। এ যেন ঈদের আগেই অন্যরকম উৎসব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষেই এমন আয়োজন ক্যাম্পাসজুড়ে। আলোকিত চারপাশ নিয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবু শাহীন বলেন, ‘আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠানটির আজকের বর্ণিল আয়োজন দেখে ভাষা হারিয়ে ফেলছি বারবার। এতো গর্ব অনুভব করছি গত কয়েকদিনে ক্যাম্পাসের এমন রঙিন আয়োজন দেখে তা বলার মতো না। এখানে চান্স পেয়ে ধন্য মনে হচ্ছে।’
একটি প্রতিষ্ঠান তার দেশের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, সামাজিক প্রেক্ষাপট সবকিছুকেই যেন ধারণ করে আছে। তাই শুধু শিক্ষার্থীদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নিঃসন্দেহে দেশের প্রতিটি উন্নয়নের পরতে পরতে রয়েছে তার ছোঁয়া। এমন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠা দিবস তো পালিত হবে একটু জাঁকজমক ভাবেই!
সেই ১৯২১ সালের ১ জুলাই ছোট্ট পরিসরে যাত্রা শুরু করে আজকের ‘জাতির বাতিঘর’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর থেকেই গৌরব, ঐতিহ্য আর সমৃদ্ধির পথচলা শুরু। নানা সংগ্রাম পেরিয়ে আজ উদযাপিত হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ‘উচ্চশিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন’ এ বিষয়কে প্রতিপাদ্য হিসেবে নিয়ে এরইমধ্যে দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
দিবসটিকে সামনে রেখে একটি শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বাণীতে তিনি বলেন, ‘জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও জ্ঞানালোক সমৃদ্ধ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মহান ব্রত নিয়ে শতকের পথে এগিয়ে চলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে সবসময়ে পরিবর্তিত জীবনাদর্শ, বাস্তবতা, উদ্ভাবন ও বিবর্তন বিশ্লেষণ করে জাতিকে দিক নির্দেশনা দেয় এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার অবারিত সুযোগ, মেধাচর্চার আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল তৈরিতে সবসময় আপন দায়িত্ব ও কর্তব্য নিষ্ঠার সাথে পালিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিকে উদারনৈতিক উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত নতুন প্রজন্ম উপহার দিতে সদাসচেষ্ট। একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় কেবলমাত্র উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’
প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুদীর্ঘ এই পথ চলায় নিজস্ব আলোয় আলোকিত দেশ সেরা এই শিক্ষালয়টি। অর্জনও রয়েছে অনেক, রয়েছে সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। দুর্বার গতিতে চলতে গিয়ে হোঁচট খেতে হয়েছে, কিন্তু কারো ওপর নির্ভর করতে হয়নি কখনো। কর্তৃত্ব চালিয়েছে দেশের সীমানা ভেদ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ব্রিটিশদের শোষণ, পাকিস্তানীদের নির্যাতনের আর তারপর দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা সমৃদ্ধ ইতিহাস।’
দেশের নানা ক্রান্তিকালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে দেশের ইতিহাসের অংশ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এই শিক্ষাঙ্গন। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা জাতি গঠনে প্রতিষ্ঠানটি ব্যায় করেছে যৌবন। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে। মাতৃভাষা ফিরিয়ে আনার দাবিতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, নিজেদের অধিকার আদায়ে ছিষট্টির ছয় দফা, সংগ্রামের ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও স্বাধীনতা আন্দোলনের একাত্তরে এ বিশ্ববিদ্যালয় ছিল নেতৃত্বের অগ্রভাগে।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস
ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন তৎকালীন পূর্ব বাংলার দু’জমিদার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী ও শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক। তাদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে লর্ড হার্ডিঞ্জের নির্দেশে ১৯১২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘নাথান কমিটি’ গঠন করা হয়। সুদীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে ৬০০ একর জমি নিয়ে মনোরম পরিবেশে বিশাল তরুছায়া সুনিবিড় পরিবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে। যদিও এখন কমতে কমতে এর আয়তন দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৬০ একরে। ব্রিটিশরা অক্সফোর্ডের আদলে এর পঠন-পাঠন ও শিক্ষাদান কার্যক্রম পদ্ধতি তৈরি করেছিল বলেই এটিকে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিদ্যাচর্চার খ্যাতিতে এই উপমহাদেশের একটি শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। শিক্ষাদান, বিদ্যাচর্চা, শিক্ষকের গবেষণা ও পাণ্ডিত্যের খ্যাতি শুধু এ উপমহাদেশে নয়, অর্জনের প্রভাব পড়েছিল পূর্ব বাংলা পেরিয়ে ইউরোপ, আমেরিকাসহ নানা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও।
অন্যদিকে এর আবাসিক ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল উপমহাদেশের প্রাচীনতম এবং তৎকালীন শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ভারতের নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে। উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন, পাঠ নেবেন ও জ্ঞানার্জনের নানা প্রয়োজনে লাইব্রেরিসহ শিক্ষকের সাহচর্য লাভ করবেন।
প্রতিষ্ঠাকালীন তিনটি অনুষদ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা করলেও বর্তমানে এসে এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩টিতে। ১২টি বিভাগ থেকে এখন ৭৪টি বিভাগ চালু রয়েছে। এছাড়া রয়েছে, ১২টি ইনস্টিটিউট, ৪৪টি গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র। সূচনাকালে এর আবাসিক হল তিনটি থাকলেও বর্তমানে ৫টি ছাত্রী হলসহ এর সর্বমোট হল সংখ্যা ১৯টি।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাকালে শিক্ষক ছিলেন মাত্র ৬০ জন। বর্তমানে এর শিক্ষক সংখ্যা ১৮০৯ জন। ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যে বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা করেছিল আজ তার শিক্ষার্থী সংখ্যা ৪৭৮২৭ জন। এছাড়া সান্ধ্যকালীন বিভিন্ন কোর্সে শিক্ষার্থী রয়েছেন ৫৩০৮ জন।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা রয়েছেন ৮৬৬ জন, ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী ১০৯৮ জন ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ২০৬৮ জন।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত ঢাবি থেকে পিএইচডি ডিগ্রিধারীর সংখ্যা প্রায় ১০৯৯ জন আর এমফিল ডিগ্রিধারীর সংখ্যা ১১৫২ জন।
সুদীর্ঘ ৯৪ পেরিয়ে ৯৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশকে দিয়েছে অনেক কিছু। দিয়েছে দেশ-বিদেশে অনেক খ্যাতি ও গৌরব। অর্জন করেছে অনেক দুর্লভ সম্মান। তৈরি করেছে দেশ-বিদেশে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান পণ্ডিত ও গবেষক। আজ বাংলাদেশ নামক ছোট্ট দেশটির রাজনীতি, প্রশাসন থেকে শুরু করে হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্টে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।