স্পোর্টস ডেস্ক : সাদা পোশাকে একজনের শুরু ১৯৯৭ সালে, আরেকজনের ২০০০ সালে। প্রায় দেড় দশকের বেশী সময় ধরে লংকান টেস্ট ক্রিকেটে তারা সহযোদ্ধা। একজন টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন গত বছরই। আরেকজন রয়েছেন অপেক্ষায়। তবে শুক্রবার পাল্লেকেলেতে পাকিস্তান-শ্রীলংকা তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরুর আগে হতাশা মাখানো এক দীর্ঘশ্বাস নিতেই পারে ভক্ত-সমর্থকরা। ২০০০ সালের পর শ্রীলংকা এই প্রথম কোন টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামছে, যেখানে থাকবে না মাহেলা জয়াবর্ধনে কিংবা কুমার সাঙ্গাকারা।
অথচ ম্যাচটি সিরিজ নির্ধারক। প্রথম ম্যাচে ১০ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলংকা জিতেছে সাত উইকেটে। ১-১ সমতায় আসা পাল্লেকেলে টেস্টে নতুন এক শ্রীলংকাকেই দেখা যাবে। শুরু হবে লংকান টেস্ট ক্রিকেটে নতুন এক যুগ।
গেল বিশ্বকাপ ক্রিকেটে মাহেলা-সাঙ্গা এক সঙ্গে বিদায় জানিয়েছিলেন ওয়ানডে ক্রিকেটকে। মাহেলা গত বছর টেস্ট ও টি২০কে বিদায় জানালেও সাদা পোশাকে সাঙ্গাকারা এখনও আছেন, তবে মাসখানের জন্য।
আগেই তিনি ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম দুটি টেস্ট খেলবেন। সব ধরনের ক্রিকেট থেকে তিনি বিদায় নেবেন আগষ্টে ভারতের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠেয় টেস্ট সিরিজের দুটি ম্যাচ খেলে।
সেই হিসাবে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাল্লেকেলেতে তৃতীয় টেস্টে থাকছেন না কুমার সাঙ্গাকারা। যা লংকান ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন ঘটনাই। মাহেলা-সাঙ্গাকারা পরবর্তী একটা যুগের অপেক্ষায় লংকান ক্রিকেট। শেষ হতে যাচ্ছে লংকান ক্রিকেটের সোনালী এক প্রজন্মের।
সাঙ্গাকারা চলে যাওয়ার পর লংকান টেস্ট ক্রিকেট টিম তারকা শুন্যই হয়ে পড়বে। অধিনায়ক অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুস পথ দেখাবেন দেশকে, যে কি না এখনও ৫০টি ম্যাচও খেলেননি।
অথচ এই সাঙ্গাকারার টেস্ট ম্যাচ খেলার সংখ্যা ১৩২টি। ৩৮ সেঞ্চুরি ৫২টি ফিফটি সহ তার মোট রান ১২৩০৫। যা লংকান টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ। গড় ৫৮। পরের অবস্থানই মাহেলা জয়াবর্ধনের। ১৪৯ ম্যাচে মাহেলার মোট রান ১১৮১৪। ৩৪টি সেঞ্চুরি ও ৫০টি হাফ সেঞ্চুরি। গড় ৪৯।
তৃতীয় স্থানে রয়েছেন সনাথ জয়সুরিয়া। ১১০ ম্যাচে মাতারা এই হারিকেনের রান ৬৯৭৩, গড় ৪০। সেঞ্চুরি ১৪, হাফ সেঞ্চুরি ৩১।
চিত্র বেশ পরিষ্কার, টেস্ট ক্রিকেটে কী রত্নই না হারাতে চলেছে শ্রীলংকা।
আগের সেই প্রজন্ম ধরতে গেলে অনেক তারকা খেলোয়াড়ই লংকান ক্রিকেটের হয়ে সুনাম বয়ে এনেছেন। সাফল্যের দিক থেকে সাঙ্গাকারা-মাহেলার পর জয়সুরিয়া, ডি সিলভা, আতাপাত্তু, দিলশানরা এক সময় কাঁপিয়েছেন সাদা পোষাকে।
বল হাতে শ্রীলংকার হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট মুত্তিয়া মুরলিধরনের (৭৯৫টি)। তিনিতো টেস্টকে বিদায় জানিয়েছেন আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে। এছাড়া চামিন্দা ভাস, জয়সুরিয়া, লাসিথ মালিঙ্গা, দিলহারা ফার্নান্দোরাও সাদা পোশাকে আজ অতীত কোন নাম।
সব মিলিয়ে একটা সোনালী প্রজন্মের ইতি ঘটতে যাচ্ছে লংকান ক্রিকেটে। তবে নতুনের জয়গানে আবার লংকান ক্রিকেট মথিত হবে নতুন স্বপ্নে, এমনটাই আশা ভক্ত-সমর্থকদের।
শুক্রবার পাল্লেকেলে টেস্টের আগে মাহেলা-সাঙ্গা প্রসঙ্গে শ্রীলংকার অধিনায়ক অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুস বলেছেন, ‘এটা অবশ্যই বেশ কঠিন কাজ মাহেলা ও সাঙ্গার জায়গা পূর্ণ করা। এটা অনেক সময়ের ব্যাপার’।

