স্পোর্টস ডেস্ক : ১৯৯৩ সালের পর থেকে বৈশ্বিক কোপো শিরোপা জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। কোপা আমেরিকায় সেই আক্ষেপ ঘুচানোর সুযোগ এসেছে লিওনেল মেসিদের সামনে। সেজন্য আর দুটি ম্যাচ জিততে হবে আর্জেন্টিনাকে। দক্ষিণ আমেরিকান শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা জেতার পথে মেসিদের প্রথম বাধা কোয়ার্টারে ব্রাজিলকে পরাজিত করা প্যারাগুয়ে। ফাইনালে উঠার লড়াই মেসি-ডি মারিয়ারা প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবেন।
মঙ্গলবা কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে মুখোমুখি হবে। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল ২৪, সনি সিক্স এইচডি ও সনি কিক্স।
এর আগে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্রয়ের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিদের। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনাকে রুখে দেয়া এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিতে উঠা প্যারাগুয়ের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকার কথা।
কোয়ার্টারে ব্রাজিলের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ৭২ মিনিটের গোলে সমতায় ফেরে প্যারাগুয়ে। প্যারাগুয়েকে সমতায় ফেরানো ভালদেজ আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দারূণ কিছু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ভালদেজ বলেন, ‘আমরা গ্রুপ পর্বের মতো একই ভুল সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে করতে চাই না। আমরা শুধু বলের পেছনে দৌঁড়াতে চাই না, বল দখলে রাখতে চাই। সেমিতে উঠায় সবাই আমাদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে এবং আমরা এখন দক্ষিণ আমেরিকান দেশের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে আছি। আমরা আরো ভালো কিছু করতে চাই।’
এই ভালো কিছু যে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে উঠা সেটা বুঝতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়। ২০১১ সালেও আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো দলকে পেছনে ফেলে কোপার ফাইনাল খেলেছিল প্যারাগুইয়ানরা।
কোপা আমেরিকায় সবচেয়ে শক্তিশালী ফরোয়ার্ড লাইন নিয়ে এসেছে আর্জেন্টিনা। ফেবারিট হিসেবে আসর শুরু করলেও মেসিদের খেলায় মন ভরেনি দর্শকদের। চার ম্যাচে মাত্র ৪ গোল করেছেন মেসি-আগুয়েরোরা। ফলে সেমিফাইনালের ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য যেমন ফাইনালে উঠার মঞ্চ ঠিক তেমনি নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের আদর্শ মঞ্চও বটে। মেসিরা নিশ্চয়ই সমালোচনার জবাব দিতে মুখিয়ে আছেন।
কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়াকে হারাতে টাইব্রেকারের ভাগ্য-পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল মেসিদের। দুর্দান্ত খেললেও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে সেই গোল খরা কাটাতে চাইবেন মেসিরা। তাছাড়া ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে ও ব্রাজিল ছিটকে পড়ায় কোপার শিরোপা জেতার জন্য মেসিরাই একচ্ছত্র ফেবারিট।
আর্জেন্টিনার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হাভিয়ের পাস্তোরের মতে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টনার খেলাটি জেরার্ডো মার্টিনোর অধীনে খেলা তাদের সেরা ম্যাচটি। তবে গোল করা নিয়ে তিনিও চিন্তিত।
পাস্তোরে বলেন, ‘আমি মনে করি, শুক্রবার কলম্বিয়ার বিপক্ষে মার্টিনোর অধীনে আমাদের সেরা ম্যাচটি খেলেছি। আমরা পারফেক্ট ম্যাচ খেলেছি, তবে আমরা কিছুতেই গোল করতে পারছিলাম না।
জাতীয় দলের হয়ে মেসির গোল খরা নিয়ে সমালোচনা হলেও তার সতীর্থ সার্জিও আগুয়েরো মেসিকে আগলে রাখছেন। সার্জিও আগুয়েরো বলেন, ‘মেসি সব সময়ই ভালো করতে চায় এবং যখন সে গোল করতে পারে না তখন বলে, আমি আসলেই দুর্ভাগা। কিন্তু আমি তাকে বলি, শান্ত হও, গোল আসবেই। তোমাকে ধৈর্য্য ধরতে হবে।’
কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার রেকর্ড বরবরই ভালো। দক্ষিণ আমেরিকান শ্রেষ্ঠত্বেল লড়াইয়ে সর্বশেষ ১৮ ম্যাচে মাত্র একটিতে পরাজিত হয়েছে মেসির দেশ। ১১ জয়ের বিপরীতে ড্র করেছে ৬টিতে। সর্বশেষ ২০০৭ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে হেরেছে আলবেসেলেস্তরা।
তাছাড়া কোপা আমেরিকার সর্বশেষ দুই সেমিফাইনালের ফলাফলও মেসিদের জন্য আশাব্যঞ্জক। ২০০৪ সালে কলম্বিয়াকে সেমিফাইনালে ৩-০ গোলে এবং ২০০৭ সালে মেক্সিকোকে একই ব্যবধাহে হারিয়ে ফাইনালে উত্তীর্ণ হয় আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনার হয়ে আজকের ম্যাচে পাবলো জাবালেতার খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। আক্রমণে মেসি ও সার্জিও আগুয়েরো তো রয়েছেনই। ডি মারিয়ার সঙ্গে মিডফিল্ডে হাভিয়ের মাসচেরানো থাকবেন। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে পেনাল্টি শ্যুটে গোল করে দলকে জেতানো কার্লোস তেভেজের প্রথম একাদশে থাকার সম্ভাবনা কম। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামতে পারেন সম্প্রতি জুভেন্টাস ছেড়ে আর্জেন্টিনার ক্লাব বোকা জুনিয়র্সে যোগ দেয়া এই স্ট্রাইকার।

