তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সামিট টেকনোপলিস লিমিটেডের কনসেশন এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২৮ জুন বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম এবং সামিট টেকনোপলিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।
আইসিটি সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিতে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এছাড়া অনুষ্ঠানে গেস্ট অফ অনার ছিলেন সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. আজিজ খান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম এবং সামিট টেকনোপলিস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রেজা খান।
নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক প্রযুক্তি ভিত্তিক শিল্পায়ন, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার শিল্পের উত্তরণ ও বিকাশের সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে। এটি হবে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের একটি সফল রূপায়ন।’
নসরুল হামিদ বিপু আরও বলেন, ১৯৯৯ সালে তৎকালিন আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম হাই-টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। যা বর্তমান সরকারের আমলে বাস্তবে রূপ লাভ করছে। হাই-টেক পার্ক দেশের অর্থনেতিক অগ্রগতিতেও বিরাট ভূমিকা রাখবে।
হাই-টেক পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম জানান, ২৩২ একর জমির এ পার্কটিকে ৫টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। সামিট টেকনোপলিস ও ইনফিনিটিইনফোসিস ২ এবং ৫ নম্বর ব্লকের উন্নয়ন করবে। ব্লক ২ ও ৫ এ জমির পরিমান যথাক্রমে ৬২ ও ২৯ একর।
চুক্তি অনুযায়ী সামিট টেকনোপলিস এ দুটি ব্লকে ২০৭.৫৯ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। ২ নম্বর ব্লকে মাল্টি টেনেন্ট বিল্ডিং, কনভেনশন সেন্টার, হোটেল, কাস্টম ইনফ্রাস্টাকচার, ওয়্যার হাউজ এবং শিল্প এলাকার উন্নয়ন করা হবে।
৫ নম্বর ব্লকে পার্ক শিল্প এলাকার উন্নয়ন ছাড়াও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং সাব-স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
সরকার ও সামিটের মধ্যে এ চুক্তির মেয়াদ ৪০ বছর। যা পরবর্তীতে আরও ২০ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে।
২৩২ একরের এ পার্কের ৯৮.৯ একর ভূমি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রোড এবং উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বাকী ১৪.৫১মিলিয়ন বর্গ ফুট এলাকা বাণিজ্যিক, আবাসিক ও অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কুটনীতিক, তথ্যপ্রযুক্তিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

