নিজস্ব প্রতিবেদক : অন্ধকারে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ফিল্মসিটি। চলচ্চিত্র পরিচালকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাভারের কবিরপুরে ১৯৮০ সালে আনসার একাডেমির দক্ষিণ পাশে ১০৫ একর জমি বাংলাদেশ বেতার থেকে এফডিসিকে বরাদ্দ দেয়া হয়। সেইসঙ্গে বিএফডিসির কর্তৃপক্ষ জমিটি তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। তখন তথ্য মন্ত্রণালয়কে ফিল্ম সিটি গড়ার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশও দেয়। এরপর মন্ত্রণালয় একটি পরিকল্পনা জমা দিলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।
চলচ্চিত্রকারদের অব্যাহত দাবির মুখে পরিকল্পনা জমা দেয়ার ২৩ বছর পর ২০০২ সালে এফডিসির তৎকালীন মহাপরিচালক (এমডি) ওয়াসিমুল বারী রাজীব বিষয়টি আবার সরকারের নজরে আনেন। এরপর বিষয়টি আবার ডিপফ্রিজে চলে যায়। সদ্য বিদায় হওয়া এমডি হারুন-অর-রশীদ পুনরায় ফিল্ম সিটি নির্মাণের বিষয়টি সরকারের নজরে আনেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিএফডিসির কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ কর্মতৎপরতা দেখা যায়।
২০১৪ সালে এক ঘোষণায় দেশের চলচ্চিত্রের উন্নয়নে ফিল্মসিটি নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছিলেন, ‘এ বিষয়ে ৫৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।’
এদিকে, ফিল্মসিটি বিষয়ে দেখভাল করছেন এফডিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কেএম আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটি ২০০২-০৩ সালের পর থেকে সবুজ পাতায় থাকছে, সাদা পাতায় যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী গত ২০১৪ সালে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি চিঠি পাঠায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এর কাজ শুরু হবে। যতোদিন না অনুমোদন না পাওয়া যায় ততদিন তো কিছুই নিশ্চিত করে বলা যায় না। সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে চিঠি পাঠানো হলে সে চিঠি বাদ দেয়া হয় না। ফিল্মসিটির উন্নয়ন প্রকল্পে রয়েছে পুকুরঘাট বাঁধাইসহ নানা এলিমেন্ট তৈরি। শ্যুটিং লোকেশনের জন্য তিনটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা দৃষ্টিনন্দন বাড়ি নির্মাণ। গ্রামীণ আবহ তৈরি, রেললাইন, রানওয়ে স্থাপন, ব্রিজ, বাগান, পাহাড় তৈরি। শ্যুটিং ইউনিটের জন্য রেস্ট হাউস, ফ্লোর নির্মাণ, আউটডোর-ইনডোর শ্যুটিংয়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা করা, বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ প্রভৃতি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপাতত লাইট ছাড়া অন্য কোনো ইক্যুইপমেন্ট নেই প্রজেক্টে। দ্বিতীয় ধাপে ইক্যুইপমেন্টের ব্যবস্থা করা হবে। ভূমিপ্রাপ্তির ৩৫ বছর পরেও গড়ে ওঠেনি বাংলাদেশ ফিল্মসিটি। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ১৫০.১১৭ একর জায়গা।
এদিকে, ফিল্মসিটি নিয়ে বেশ আশাবাদী চলচ্চিত্র অঙ্গনের লোকজন। তাদের মধ্যে বেশ উচ্ছ্বাসও লক্ষ্য করা গেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান বলেন, ‘অনেক আগে বিষয়টি নিয়ে বেশ কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এরপর আর কোনো কিছুই চোখে পড়েনি। এখন আবার শুনছি আগামী অর্থবছরে বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রয়েছে। যদি ফিল্মসিটি নির্মাণ হয় তাহলে তো আমাদের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্যে ভালোই হয়। বিশ্বের অনেক দেশে ফিল্মসিটি রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে নেই, যা অনেকটা দুর্ভাগ্যজনক।’

