বিনোদন ডেস্ক : জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা রিয়াজ আহমেদ। যিনি দর্শকদের কাছে নায়ক রিয়াজ নামেই পরিচিত। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতীয় চলচ্চিত্রকার ও অভিনেতা মহেশ মাঞ্জরেকারের ‘ইট ওয়াজ রেইনিং দ্যাট নাইট’ নামে একটি ইংরেজী চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। এতে তার বিপরীতে ছিলেন বলিউড অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। কিন্তু অনেকদিন ধরেই চলচ্চিত্রে অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন রিয়াজ। কারণ হিসেবে জানালেন সময় সুযোগসহ সবকিছু মিলে গেলেই আবার চলচ্চিত্রে ফিরেবেন। তবে সেটা ফেরার মত করেই ফিরতে চান। তবে চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলে নিয়মিত ছোটপর্দায় অভিনয় করছেন। বর্তমানে বাংলা চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন এ তারকা অভিনেতা।
‘চলচ্চিত্রে যাচ্ছি না। কারণ সেই অর্থে ভাল ছবি হচ্ছে না। এতো দিন পরে ছবিতে অভিনয় করলে মানসম্পন্ন ছবিতে অভিনয় করব। যা তা ছবিতে অভিনয় করতে চাই না। এতোদিন পরে ছবিতে অভিনয় করলে দর্শকরা রিয়াজের কাছ থেকে অভিনয়ের জায়গা থেকে নতুন কিছু পাবে সে বিষয়টি মাথায় রয়েছে।এ বিষয়টি যতদিন না তৈরি হবে ততদিন ছবিতে অভিনয় করব না।’
বেশ কয়েক দিন ধরেই নায়ক রিয়াজ আবার চলচ্চিত্রে ফিরছেন এরকম কথা শোনা যাচ্ছিলো, এ প্রসঙ্গ তুলতেই রিয়াজ জানালেন, বর্তমানে চলচ্চিত্রের পরিবেশ ও চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করছে এ নিয়ে তার মনে হাজারো প্রশ্ন। তাছাড়া চলচ্চিত্রের বর্তমান পরিবেশ ভাল নয়। যার কারণ হিসেবে তিনি আরো বললেন, ‘আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রাটির মধ্যে শিক্ষিত লোকের বড়ই অভাব। চলচ্চিত্র একটি অদ্ভুত অবস্থায় নিজেদের চরিত্র সৃষ্টি করছে। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান হলগুলোকে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে। ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় ভালে ছবি বা গুনগত মানের ছবি, ভাল বাজেটের কারণে হচ্ছে না। এছাড়া ভালে গল্প ও দক্ষ পরিচালকের অভাব রয়েছে।বর্তমানে কোন ছবির গল্প আমাদের না। বিজাতীয় গল্পের তলানিতে পড়ে গেছে। ফিল্মের মানুষের মনে এখন একটা ভাবনা যোগ হয়েছে, যে ফিল্ম মানেই ব্যবসা। ফিল্মে বিনিয়োগ করলেই অনেক বেশি পরিমাণে অর্থ উপার্জন করা যায়।’ এ বিষয়ে রিয়াজ আরো বলেন, ‘ফিল্মের ক্ষেত্রে পুরোটা অর্থ সম্পর্কিত চিন্তাভাবনা থাকে। এটাই মুখ্য হিসেবে থাকে। বাস্তব জীবনে অর্থের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেটা আমার শখ, স্বপ্ন বা ভাল লাগা বা ভালোবাসার জায়গা বিসর্জন দিয়ে নয়। আমরা যখন নিয়মিত কাজ করতাম তখন শুধু টাকা নয়, সম্মান-পুরস্কার চাইতাম। কিন্তু বর্তমানে সবাই চলচ্চিত্রে এসে অল্প কয়েক দিনে অর্থ কড়ি উপার্জন করতে চায়। এছাড়া যত তাড়াতাড়ি এ মাধ্যম থেকে দূরে যাওয়া যায়।
রিয়াজবর্তমানে যারা নবাগত নায়ক বা নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন তাদের অভিনয় বা কাজ নিয়েও বেশ সমালোচনা করেন রিয়াজ। তার ভাষায়, ‘নতুন যেসব মুখ ফিল্মে অভিনয় করছে তাদের মধ্যে টিকে থাকার সে রকম মানসিতা দেখতে পাচ্ছি না। অভিনয়ের জায়গা থেকে তাদের সেরকম দক্ষও মনে হয় না। তবে দু’একজনের আছে যারা ভালে করছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের দক্ষতার আরও প্রমাণ মিলবে। বর্তমানে চোখের সামনে অনেক হিরোকেই দেখি। কিন্তু তাদের উল্লেখযোগ্য একটি কাজও দেখি না। ’
ফিল্মে যারা কাজ করছে তাদের বেশিরভাগ পড়াশোনার দিকটাকে গুরুত্ব দেয় না। এ বিষয় তুলতেই রিয়াজ বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ফিল্মে অভিনয় করতে হলে নূন্যতম একজন শিল্পীকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে আসতে হবে। যারা শিক্ষিত বা জানা শোনা তাদের চিন্তাভাবনা অন্যদের থেকে আরও ভালে হবে। বিষয়টা স্বাভাবিকই। আমাদের এখানে এ বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। শুধু অর্থ থাকলেই আর কোন রকমে নামে মাত্র অভিনয় করতে জানলেই হয়। নিজেকে উপস্থাপন কিংবা ক্যামেরার ভাষা বলে কিছু কথা আছে সে বিষয়গুলোও আমার চোখে পড়ে না। কোন রকমে জোড়াতালি দিয়েই চলছে। কোন ধরনের সামঞ্জস্য খুঁজে পাই না। ছবির ভেতরে প্রাণ নেই। কিছু লোক দেখছে, কিছু লোক দেখছে না। দর্শকদের কাছে কৃতজ্ঞ, যে তারা এখনও প্রেক্ষাগৃহে ছবি দেখতে যায়। কারণ যে ধরনের ছবি নির্মিত হচ্ছে কিছু ছবি বাদে সবগুলোরই একই অবস্থা। আমি আমার জায়গা থেকে সত্যি কথা বলতে সফল হয়েছি। জীবনে যে জায়গাটাতে যেতে চেয়েছিলাম সে ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।’
ফের চলচ্চিত্রে ফেরার কথা শোনা যাচ্ছে। তাহলে কবে নাগাদ ফিরবেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘নতুন দুইটি গল্প নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু সেখানে যে অভিনয় করবো তা বলা যায় না। সেখানে আমি পরিচালক বা প্রযোজক হিসেবেও থাকতে পারি। গল্পের জায়গা থেকে আমাকে যেভাবে দেখা হবে বা গল্প আমাকে যেভাবে চায় আমি ঠিক সেভাবেই কাজ করব।’
চলচ্চিত্রের দিকে সরকারের সুনজর নেই বলে সমালোচনা করে রিযাজ বলেন, ‘চলচ্চিত্র একটি বিশাল মাধ্যম। যে মাধ্যমের উপর প্রত্যাশা অনেক বেশি। কিন্তু এদিকে আমাদের সরকারের কোন সুনজর দেখছি না। যদি থাকতো বিএফডিসির অবস্থা আজ এরকম হতো না। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অবহেলা বা অযত্নে রয়েছে। আরেকটি বিষয় না বললেই নয় সরকার যে ছবিগুলো বানাতে অনুদান দেয় সে ছবিগুলো পরে বানানো হয় কিনা। কিন্তু বানানো হলেও ছবিগুলো কিভাবে বানানো হলো সে বিষয়ে কোন খোঁজখবর রাখে বলে আমার মনে হয় না।’
প্রেক্ষাগৃহের প্রসঙ্গ আসতেই রিয়াজ বলেন, ‘আমাদের দেশে বর্তমানে যদি দুইশতাধিক হল রয়েছে। সরকার হল মালিকদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করুক। হলের পরিবেশ উন্নত করা হোক। চলচ্চিত্রের উন্নয়নের জন্য কিছু করা হলে দর্শক ঠিকই হলে ফিরবে। শুধু শুধু হলে দর্শক নেই এ দোহাই দিয়ে আর কতকাল চলবে।’

