স্পোর্টস ডেস্ক : চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে হলে শীর্ষ আটে থাকতে হবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভারতের বিপক্ষে ২-১ সিরিজ জয়ের কারণে বাংলাদেশ এখন ৯৩ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে সপ্তম স্থানে। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে বাংলাদেশের এটাই সেরা অর্জন। পেছনে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তানের মত ক্রিকেট পরাশক্তিগুলো। একই সঙ্গে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সপ্তম স্থানে থাকাটাও নিশ্চিত করে ফেলেছে মাশরাফিরা।
তবে, বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাদ দিতে অভাবনীয় কূটচাল শুরু করে দিয়েছে পাকিস্তান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর জিম্বাবুয়েকে নিয়ে এই কূটচাল করে তারা চাইছে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে। তাতে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি যেমন খেলা হবে, তেমনি বাদ যাবে ওয়ানডে ক্রিকেটকে কাঁপিয়ে দেয়া নতুন শক্তি বাংলাদেশকেও।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ডে প্রকাশিত এই খবরের পর যখন তোলপাড় শুরু হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গণে, তখন শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশও। কী করলে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে পারবে পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর কী করলে, তাদের এই স্বপ্ন থেকে যাবে দুঃস্বপ্নেই!
মূলত হিসাব-নিকাশটা করতে হচ্ছে আন্দাজের ওপর ভর করেই। কারণ, এখনও পর্যন্ত প্রস্তাবিত ত্রীদেশীয় সিরিজের কোন ফরম্যাট এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সিরিজটা প্রস্তাবিত। আদৌ সেটি বাস্তবতার মুখ দেখবে কি না সন্দেহ। যদি সত্যি সত্যি পাকিস্তানিরা কূটচাল চালে এবং সিরিজটি আলোর মুখ দেখে, তাহলে কী কী করলে তারা বাংলদেশকে পেছনে ফেলতে পারবে পাঠকদের জন্য সেই হিসাব কষে বের করার চেষ্টা করা হল।
আইসিসি নির্ধারিত এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্লান) অনুযায়ী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যা সূচী, তাতেই বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছে। কারণ এই সময়ের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা পাকিস্তান- দু’দলের কারও পক্ষেই বাংলাদেশের পয়েন্টকে টপকানো সম্ভব নয়। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে যদি বাংলাদেশ সব ম্যাচ হারেও।
মূলতঃ সূচীতে এই সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোনো সিরিজ কিংবা ম্যাচই নেই। এ কারণে তাদের উপরে উঠে আসারও সম্ভাবনা কম। কিন্তু নতুন কূটচালে দেখা যাচ্ছে, তারা জিম্বাবুয়ে আর পাকিস্তানের বিপক্ষে একটা ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাচ্ছে।
এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট, পাকিস্তানই এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হবে। কারণ, তারা শ্রীলংকার বিপক্ষে সিরিজ হেরে গেলেই বাদ পড়বে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি থেকে। আর যদি লংকানদের বিপক্ষে পাকিস্তান সিরিজ জেতে তাহলে বাদ পড়তে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
প্রশ্ন দাঁড়ালো, ত্রিদেশীয় এই টূর্নামেন্টের ফল বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না?
বিশ্লেষণটা শুরু হোক শ্রীলংকা-পাকিস্তান ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে। পাকিস্তান যদি ৪-১ এ সিরিজ জেতে তাহলে তাদের রেটিং পয়েন্ট হবে ৯১.৭ রেটিং। আর যদি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ আর কোন ম্যাচ না জেতে তাহলে তাদের রেটিং পয়েন্ট কমে দাঁড়াবে ৮৯.৯। ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন থাকবে ৮৮.৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে। সুতরাং, বাংলাদেমের বাদ পড়ার সম্ভাবনাই নেই।
কিন্তু হিসাব গরমিল করে দিচ্ছে নতুন প্রস্তাবিত ত্রিদেশীয় সিরিজ। যদি এটি অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে প্রত্যেকেই প্রত্যেকের সাথে ২ টি করে ম্যাচ খেলবে। প্রথম পর্বে ৪ টা ম্যাচ, এরপর ফাইনাল।
ওই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে যে কেউ জিম্বাবুয়ের সাথে হেরে গেলে বাংলাদেশের আগে যাওয়ার কোন সুযোগই থাকবে না। আবার গ্র“প পর্বে যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুটি ম্যাচেই পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় কিন্তু ফাইনালে জিতে যায়, তাহলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাদ যাবে।
তবে একটি ক্ষেত্রে শুধু পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশের আগে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ একে অপরের সাথে একটি করে ম্যাচ জেতে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনালে জয় পায়, তাহলে দুই দলই উঠে যাবে বাংলাদেশের আগে এবং মাশরাফিদের বাদ দিয়ে চলে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে।
তবে এ ক্ষেত্রেও কথা থাকবে। এই হিসাব শুধু প্রযোজ্য হবে অন্য একটি হিসাব সত্য হলে। সেটা শুধুমাত্র তখনই সম্ভব হবে, যদি বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩-০তে হেরে যায় এবং পাকিস্তান শ্রীলংকাকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতে যায়।
কিন্তু পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের সব হিসাবই উল্টে যাবে, যদি বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষ একটি ম্যাচ অন্ততঃ জিতে যায় তাহলে সেই ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়েও বাংলাদেশকে আটকাতে পারবে না কেউ।
আবার ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়েও শঙ্কা আছে। কারণ, হিসাবটা পরিষ্কার। শ্রীলংকার সাথে যদি পাকিস্তান ৩-২ ব্যবধানেও সিরিজ জিতে যায়, তাহলে তারাই চলে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তান কেন শুধু শুধু রিস্কই নিতে চাইবে! আবার তারা যদি আর ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ হেরে যায়, তাহলে ওয়েস্ট ইন্ডিজই উঠে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। সুতরাং, তাদেরই বা কেন রিস্ক নেওয়া প্রয়োজন হবে!
তবুও যদি টূর্নামেন্ট হয়ই, এবং তারা সব সমীকরণ মতো খেলে, তাতেও লাভ হবে না যদি, বাংলাদেশ অন্তত একটি ম্যাচে প্রোটিয়াদের হারিয়ে দেয়। তখন সব পরিকল্পনা মাঠে মারা যাবে পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

