ঢাকাFriday , 26 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আইসিটি এক্সপো’র অব্যবস্থাপনার চিত্র ইফতার পার্টিতেও

Link Copied!

ictনিজস্ব প্রতিবেদক : আইসিটি এক্সপো ২০১৫ এর অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুঁটে উঠলো ইফতার পার্টিতেও। ইফতারের দাওয়াত দিয়েও সময় মত অতিথিদের ইফতার সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয় আয়োজকরা। ফলে ইফতারের সময় শুধু পানি পান করে রোজা ভাঙ্গতে হয় অতিথিদের। ইফতার পার্টিতে খাবার ও জায়গার সংকট দেখা দেয়। ফলে পার্টিতে আগতদের অনেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ইফতার করেন। কেউবা অন্যদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করেন। এতে করে অতিথিদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
২৫ এপ্রিল আইসিটি এক্সপোর পক্ষ থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সেলিব্রেটি হলে এই ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। মেলার অংশগ্রহণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, তথ্য প্রযুক্তিখাতে সংশ্লিষ্টব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকদের জন্য আইসিটি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল যৌথ ভাবে এই ইফতার পার্টির আয়োজন করে।
বৃষ্টির কারণে অতিথিদের ইফতার পার্টিতে আসতে খানিকটা দেরি হয়। ৬ টা নাগাদ অতিথিদের সবাই সেলিব্রেটি হলে উপস্থিত হন। কিন্তু কে কোথায় বসবেন সেটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন। কেননা,  শুধুমাত্র প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথিদের বসার জন্য কয়েকটি টেবিল নির্দিষ্ট ছিল। অতিথিরা কে কোথায় বসবেন তা বলে দেয়ার কেউ ছিল না।  এমনকি সাংবাদিকদের  বসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো টেবিল ছিল না। ফলে যে যার মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসেন।  অন্যদের জন্য আগে ভাগেই জায়গা দখল করে রাখা নিয়ে অতিধিরা নিজেদের মধ্যে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অতিথিদের বেশির ভাগই ছিল মেলায় অংশ নেয়া প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ইফতার পার্টির নিমন্ত্রণ পত্রে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা ছিল সাড়ে পাঁচটায়। কিন্তু বৃষ্টির কারণে প্রধান অতিথি আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আসেন খানিকটা দেরি করে। সোয়া ছয়টার কিছুটা পরে তিনি হাজির হন। ততক্ষণে হলের আসন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে খানিকটা দেরি করে যারা আসেন তারা বসায় জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এরপর আনুষ্ঠানিকতা সারতে সারতে ইফতারের সময় হয়ে যায়। কিন্তু টেবিলে খাবারে হদিস নেই। বেশির ভাগই টেবিলে তখন খাবার পরিবেশন করতে ব্যর্থ হয় ক্যাটারাররা। ফলে বিরক্তি প্রকাশ করেন অতিথিরা। টেবিলে শুধু বোতল ভর্তি পানি আর গ্লাস ছিল। এরি মধ্যে মাগরিবের আজান দেয়। বাধ্য হয়ে অতিথিদের অনেকেই শুধু পানি পান করে রোজা ভাঙ্গেন। এ সময় আয়োজকদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা যেনো নিজেরাই নিজেদের নিয়ে ইফতার করতে ব্যস্ত ছিল। অতিথিদের সবাই ইফতার পেলো কিনা সেটা তদাররি করার কেউ ছিল না।
অব্যবস্থাপনার এমন চিত্র দেখে অতিথিরা নিজেদের উদ্যোগে ওয়েটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইফতারী টেবিলে সরবরাহ করতে বলেন। ততক্ষণে পেড়িয়ে গেছে ১০ মিনিট। টেবিলে খাবারের হদিস নেই। টেবিলে যারা খাবার পাননি তারা নিরুপায় হয়ে ডিনারের জন্য রাখা বুফে টেবিলের দিকে পা বাড়ান। ততক্ষণে সেখানে খাবার নিতে মানুষের ভিড় লেগে গেছে। যারা টেবিলে ইফতার পেয়েছিলেন তারা তা খেয়ে ডিনারের জন্য বুফে টেবিলে এসে হাজির হয়েছেন। অন্যদিকে অতিথিদের মধ্যে যারা টেবিলে আসন পাননি তারাও ইফতার না পেয়ে ডিনারের জন্য বুফে টেবিলে হাজির হন।
অতিথি সমাগমের তুলনায় বুফে মেন্যুর টেবিলের সংখ্যা ছিল কম। ফলে অনেকেই খাবার পাননি। আর যারাও পেয়েছেন তারা খাবারের মেন্যু দেখে হতাশা প্রকাশ করেন। ডিনারের জন্য বরাদ্দ ছিল শুধু মাত্র তেহারি শিককাবাব আর কাটলেট। অন্যদিকে ডিনারের জন্য রাখা ডেজার্ট ইফতারের খাবার পাওয়া থেকে বঞ্চিতরা আগে ভাগেই খেয়ে ফেলেন।
অগত্যা কেউ কেউ ইফতার কিংবা ডিনার না পেয়ে টেবিল চুপচাপ বসে থাকেন। খানিকক্ষণ পর ইফতারের খাবার টেবিলে দেয়া হয়।  কিন্তু সেগুলো দেখে যেনো বিরক্তি আরও বাড়ে। ইফতারের মেন্যুর অনেক পদই সেখানে অনুপুস্থিত। ছিল না শরবতও। ওয়েটাররা জানান ইফতারের মেন্যু শেষ হয়ে গেছে। এদিকে টেবিলে তখন খাবার পানির সংকটও দেখা দেয়। টেবিলে পর‌্যাপ্ত খাবার পানি সরবরাহ করতেও ওয়েটাররা ব্যর্থ হন।
সময়মত ইফতার এবং ডিনার এবং বসার জায়গা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকই। অনেকেই ওয়েটারদের শুনিয়ে শুনিয়ে চেচিয়ে বলতেও থাকেন। পর‌্যাপ্ত খাবারের  ব্যবস্থা না করেই  এমন ইফতার পার্টির আয়োজন করার দরকারই বা কি ছিল।
এদিকে বৃষ্টিতে ভিজে যারা ইফতার পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন তারা ক্ষুধা-তৃষ্ণা এবং ঠাণ্ডায় আক্রান্ত হয়ে শীতে কাঁপতে থাকেন । শরীরকে চাঙ্গা করতে কেউ কেউ চা কিংবা কফি পানের জন্য টি টেবিলের দিকে এগিয়ে যান। সেখানে তখন তুলনামূলক ভিড় কম ছিল। কেননা, যারা টেবিলে সময়মত খাবার পেয়েছেন  এবং ভিড়ভাট্টা সামলে ডিনারের মেন্যু দিয়ে থালা পূর্ণ করেছেন তা তারা খেতে ব্যস্ত।
চায়ের পেয়ালা হাতে নিয়ে আরেকবার বিরক্তিতে ফেটে পড়েন অতিথিরা। কেননা, চা বানিয়ে দেবার জন্য ওয়েটারদের কাউকে টেবিলের পাশে পাওয়া যায়নি। ফলে অতিথিরা নিজেরাই চায়ের প্যাকেট খেলেন, চামচ দিয়ে কপির কৌটার ঢাঁকনা খুলে আলগা করেন ফয়েল পেপার। কেউবা কসরত করে দাত দিয়ে দুধের প্যাকেট খুলে পেয়ালায় ঢেলে রাখেন  দুধ। এভাবে অতিথি সৎকারেরর নামে নিজেদের সৎকার করে গরম চা-কফিতে চুমুক দিয়ে ‍কৃত্রিম তৃপ্তি খুঁজে নিয়ে হল ত্যাগ করেন।
এদিকে ইফতার পার্টিতে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিষ্ট ফোরামের(বিআইজেএফ) কোনো সদস্যকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় নি। পার্টিতে সংবাদিকদের সংখ্যাও ছিল হাতে গোনা। প্রথম সারির দুটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ছাড়া ইফতার পার্টিতে অন্য সাংবাদিকরা অংশ নেননি।
ইফতার পার্টিতে বিআইজেএফের সদস্যরা অংশ না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ খান সংগঠনটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানাতে অগারগতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ১৭ এপ্রিল শনিবার এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিস্কার করা হবে।
সংগঠনটির একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে আলাপ করা হলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে তারা জানান, আয়োকজদের পক্ষ  থেকে সিনিয়র সাংবাদিকদের অনেককেই দাওয়াত পত্র পাঠানো হয়নি। সংগঠন হিসেবে বিআইজেএফকেও আলাদা ভাবে দাওয়াত পত্র পাঠানো হয়নি। যারাও বা পেয়েছেন তাদের অনেকের কার্ডের কিছুই লেখা ছিল না।
অনেকে ২৫ এপ্রিল দুপুরে দাওয়াত পত্র হাতে পেয়েছেন। মিডিয়ার নিয়ম অনুযায়ী সংবাদ সংগ্রহের জন্য যেতে হলো আগের দিন রাতের মধ্যে অ্যাসাইনমেন্ট এডিটরের কাছ থেকে প্রেস ইনভাইটেশন দাখিল করে অ্যাসাইনমেন্ট বুঝে নিতে হয়। ফলে তারা আইসিটি এক্সপোর ইফতার পার্টিতে অংশ নিতে পারেননি।
বিআইজেএফের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল  সংবাদ সম্মেলন কিংবা যেকোনো অনুষ্ঠান দেরিতে শুরু করার রীতিমত রেওয়াজ তৈরি করে ফেলেছে। সংগঠনটির সভাপতিই সাংবাদিকদের বসিয়ে রেখে দেরি করে অনুষ্ঠানে আসেন। দেরি করে আসার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সৌজন্যতাও দেখাননা তিনি।
এছাড়া আইসিটি এক্সপোর সহযোগী হিসেবে বিআইজেএফের অংশগ্রহণের কথা থাকলে কৌশলে মেলা থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গনে সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া সেন্টার খোলা হয়নি। সাংবাদিকদের চাপে একদিন পর মেলার দ্বিতীয় তলায় ইনোভেশন সেন্টারের পাশে মিডিয়া সেন্টার খোলা হলেও সেখান থেকে সাংবাদিকদের তেমন কোনো সহায়তা দেয়া হয়নি। মেলার তথ্য সংগ্রহ  এবং তা লিখে অফিসে পাঠানোর জন্য কেনো কম্পিউটার দেয়া হয়নি। সময়মত চা-নাস্তাও সরবরাহ করা হয়নি।
এসব কারণে বিআইজেএফ আইসিটি এক্সপোর ইফতার পার্টিতে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকে বলে জানা গেছে।।