স্পোর্টস ডেস্ক : সদ্য শেষ হওয়া ওয়ানডে সিরিজে ভারতকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে আইসিসি র্যাংকিংয়ে সপ্তম স্থানে উঠে আসে মাশরাফি বনি মুর্তজার বাংলাদেশ। আগামী মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ তে হারলেও র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটে থাকা নিশ্চিত হয়ে যায় টাইগারদের। ফলে ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা নিশ্চিত হয়ে যায় যায় বাংলাদেশের।
তবে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে বাদ দিতে নতুন এক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে পাকিস্তান। তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে।
জিম্বাবুয়ে দল ঘরের মাঠে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। এরই মধ্যে নাকি ক্যারিবিয়ানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ব্যাপারটি যদি সত্যিই হয়, তবে মাশরাফিদের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলা সংশয়ের মধ্যে পড়বে। কেননা, নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটে থাকা দল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে পারবে।
র্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানটি নিয়ে মূলত পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে লড়াই হওয়ার কথা। শিডিউল অনুযায়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজের আপাতত কোনো আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ নেই। কিন্তু নিজেদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে বাদ দিতে চায়- আপাতদৃষ্টিতে চাই মনে হচ্ছে।
আগের প্রস্তাব অনুযায়ী, আগস্টে পাকিস্তানের জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে ৩টি ওয়ানডে ও ২টি টি-২০ খেলার কথা ছিল। কেননা, আফ্রিকান দেশটি ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলংকান টিম বাসে হামলার পর গত মাসে প্রথম টেস্ট প্লেয়িং দেশ হিসেবে পাকিস্তান সফর করে আসে। তখনই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে জিম্বাবুয়ে সফরে দল পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আগামী অক্টোবরে শ্রীলংকা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এফটিফি অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বরের ডেটলাইনের মধ্যে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলা নিশ্চিত হলেও শংকায় রয়েছে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এজন্য এই দল দুটি হয়তো নিজেদের খেলা নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পনা করে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয়ার চিন্তা করছে।
জিম্বাবুয়ের এক ক্রিকেট কর্মকর্তা ক্রিকেট ডটকমকে বলেন, ‘আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছি। আমরা তাদের ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। যদিও এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।’
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর আর কোনো ওয়ানডে খেলা হয়নি গেইলদের। এফটিফি অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরে শ্রীলংকা সফরে যাওয়ার কথা ক্যারিবিয়ানদের। ৮৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আপাতত টেবিলের অষ্টম স্থানে রয়েছে। এক পয়েন্ট কম নিয়ে নবম স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে ভারতকে ওয়ানডে সিরিজে হারানো বাংলাদেশ ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে সপ্তম স্থানে।
দিপাক্ষিক সিরিজ থেকে সরে এসে পাকিস্তান কেন ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাচ্ছে, আর জিম্বাবুয়ে-ই বা কেন দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাদ দিয়ে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে? এর মধ্যে অবশ্যই তৃতীয় কোনো পক্ষ কলকাঠি নাড়ছে।
যাইহোক, এখনো কোনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি। তবে যদি সত্যি সত্যিই পাকিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা মিলে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয় তবে বাংলাদেশ কঠিন সমীকরণে পড়ে যাবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও তাহলে ভারতের মতো দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে জয় তুলে আনতে হবে।
তবে ৯৩ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে থাকা বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে বাদ দেয়াটা খুব একটা সহজ হবে না। অনেক যদি ও কিন্তুর ওপর নির্ভর করতে হবে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথমত দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশকে বাজে খেলতে হবে, দ্বিতীয়ত পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলংকাকে তাদেরেই মাটিতে ৩-২ বা ৪-১ ব্যবধানে হারাতে হবে এবং সর্বশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজে অনেক যদি ও কিন্তু মিলিয়ে জয় পেতে হবে পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।
পাকিস্তানের জন্য ব্যাপারটা সহজ হবে না এজন্য যে, শ্রীলংকার বিপক্ষে আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে সিরিজে যদি তারা বাজে হার নিয়ে মাঠ ছেড়ে বেশ কিছু পয়েন্ট হারায়, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের শীর্ষ আটে থাকা নিশ্চিত হয়ে যায় তবে হয়তো ক্যারিবিয়ানরা ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলার ঝুঁকি নিতে চাইবে না। আবার পাকিস্তান যদি ওয়ানডে সিরিজে শ্রীলংকাকে হারায় তবে তারা আটে চলে যাবে। আর তা হলে তার আর ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলার ঝুঁকি নিতে চাইবে না।
গত সাত মাস ধরে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলা বাংলাদেশ ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছেড়ে কথা বলবে না। একটি-দু’টি জয় পেলে তো মাশরাফিদের আর কেউ থামাতে পারবে না। আর ‘কূটচাল’ করে পাকিস্তান যদি ওয়েস্ট ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেয় তবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বাংলাদেশও নিশ্চয়ই বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বসে থাকবে না।

