অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩৭টি দেশের সদস্যদের নিরঙ্কুশ ভোটে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) ক্যালিব্রেশন (পরিমাপক যন্ত্রের যথার্থতা নিরূপণ) অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বিএবি এখন থেকে বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্রের যথার্থতা সম্পর্কে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ দিতে পারবে। এর ফলে ওজন ও পরিমাপের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সঠিকতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে ওজন ও পরিমাপে কারচুপিরোধ করা সহজ হবে।
বুধবার বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) ক্যালিব্রেশন অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাকালে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ক্যালিব্রেশন অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে বিএবি’র অ্যাক্রেডিটেড ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরিগুলোর সনদ বহিঃবিশ্বে সহজে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। এটিও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমাদের অবস্থান সুদৃঢ় করবে।
অনুষ্ঠানের বিএবি’র মহাপরিচালক মো. আবু আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ছাড়াও সরকারি-বেসরকারি ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি রপ্তানিকালে লোহা মিশিয়ে ওজন বাড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ ইমেজ সঙ্কটে পড়েছিল।
আমু বলেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে গুণগতমান বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড গঠন করা হয়। বিএবি’র আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ায় দেশে পরিমাপ ব্যবস্থায় চলমান অসামঞ্জস্যতা ও অসচ্ছতা দূর হবে। এতে শিল্প কল-কারখানা হতে ভোক্তা পর্যায়ে সবাই সঠিক ও নির্ভুল পরিমাপের নিশ্চয়তা পাবে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান কারিগরি ও অশুল্ক বাধা দূর হবে।একই সঙ্গে রপ্তাণি বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এ অর্জন ধরে রাখতে বিএবিকে আরো কঠোর নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো বসে নেই। তারা নিজেদের পণ্যের গুণগতমান উন্নত করার পাশাপাশি নিজস্ব উন্নত জাতীয় মান অবকাঠামো গড়ে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর পণ্যের বিষয়ে অপপ্রচারও থেমে নেই। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক নিয়ে প্রতিযোগিদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় পণ্যের গুণগতমান উন্নত করার পাশাপাশি পরীক্ষণ ও ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকমান ধরে রাখতে সক্ষম হলে, বিদেশি ক্রেতারাও বাংলাদেশ থেকে টেস্টিং সার্টিফিকেট নেবে।
শিল্পসচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন,বর্তমানে বিএবি ২৩টি টেস্টিং, ২টি ক্যালিব্রেশন, ১টি মেডিকেল ল্যাবরেটরি এবং ১টি সার্টিফিকেশন বডিকে অ্যাক্রেডিটেশন সনদ প্রদান করেছে। ফলে দেশের ল্যাবরেটরি ও রপ্তানিকারকরা উপকৃত হচ্ছেন।

