আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরাকের রামাদিতে শিয়া মিলিশিয়া মোতায়েনের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরাক সরকারের নির্দেশে তারা সেখানে জড়ো হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
সোমবার রামাদির নিকটবর্তী এক সেনা ঘাঁটিতে কমপক্ষে ৩ হাজার শিয়া যোদ্ধা উপস্থিত হয়েছে । কিন্তু এ খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরাকের অন্যতম মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র। তাদের আশঙ্কা, এ ঘটনা ইরাকে জাতিগত সংঘাতে আরো বেশি রক্ত ঝড়াবে। তবে রয়টার্স বলছে, এছাড়া আইএসের যোদ্ধাদের রামাদি থেকে হঠাতে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না ওয়াশিংটন ও বাগদাদের হাতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন,‘এর পরিণতি খুব খারাপ হতে পারে।’
ইরাকের সবচে বড় প্রদেশ আনবারের রাজধানী রামাদি। বাগদাদ থেকে এর দূরত্ব মাত্র ১১২ কিলোমিটার। পশ্চিমে রাজধানী বাগদাদ থেকে সিরিয়ার সীমান্ত এবং ইরাকের সাথে জর্ডান ও সিরিয়ার সংযোগ পথ এই প্রদেশেই পড়েছে। ভৌগলিক কারণেই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর। রোববার রাতে সেটি দখল করে নেয়ার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে কালো পতাকা উড়িয়ে দেয় ইসলামিক স্টেট।
রামাদি দখলমুক্ত করতে শিয়া মিলিশিয়াদের রামাদি যাওয়ার নির্দেশ দেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল আবাদি। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার রামাদি পৌঁছেছে ৩ হাজার শিয়া সেনা। তবে তারা এখনো শহরে প্রবেশ করেনি। আনবারের কাউন্সিলের প্রধান হাশিদ শাবি জানিয়েছেন,‘ শিয়া যোদ্ধারা রামাদির নিকটবর্তী হাব্বানিয়া ঘাঁটিতে যাত্রাবিরতি করেছে। তারা আধুনিক অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত।
সোমাবার এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আইএস যোদ্ধাদের তাড়াতে প্রস্তুত তার সরকার। তিনি আরো জানিয়েছেন, ইরাক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করলেই তারা রামাদি মুক্ত করতে এগিয়ে আসবে। রামাদি উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠেছে মার্কিন বাহিনীও। কোয়ালিশন বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর অনুরোধে গত ২৪ ঘণ্টায় তারা রামাদির আশেপাশে আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে ১৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে,আইএস জঙ্গিরা রামাদি দখল করে নেয়ার পর ওই এলাকার ২৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে ।

