অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : শিক্ষার্থীদের মাঝে সঞ্চয়ের মনোভাব গড়ে তোলার জন্যই ২০১০ সালে যাত্রা হয়েছিল ‘স্কুল ব্যাংকিং’। এরপর ২০১১ তে শিক্ষার্থীরা তাদের একাউন্টে টাকা জমা রাখার সুযোগ পায়। ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠা স্কুল ব্যাংকিংয়ের হিসাব সংখ্যা মার্চ শেষে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৮। যাতে জমাকৃত মোট টাকার পরিমাণ ৭৫৬ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্প্রতি স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা এবং তাতে অর্থ জমা করার প্রবণতা বেড়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত খুদে শিক্ষার্থীদের হিসাবের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৮। যা ডিসেম্বর শেষে ছিল ৭ লাখ ৯৭ হাজার। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত খুদে সঞ্চয়ীদের ব্যাংকে জমা পড়েছে ৭৫৬ কোটি টাকা। ডিসেম্বর পর্যন্ত এসব হিসাবে জমা ছিল ৭১৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
আর প্রথম বছরে অর্থাৎ ২০১১ সালে বিভিন্ন স্কুলের ২৯ হাজার ৮০ জন শিক্ষার্থী তাদের ব্যাংক একাউন্ট খোলে। যাতে ওই সময়ে জমা পড়েছিল ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১০ সালের নবেম্বর থেকে ২০১২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ৪৫টি ব্যাংকে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৭টি স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয়েছে। ওই সময় হিসাবগুলোতে মোট স্থিতি ছিল ৯৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা।
বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা ও জমার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। শহরে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ হিসাব সংখ্যা বাড়লেও পিছিয়ে আছে গ্রামের শিক্ষার্থীরা। গ্রাম এলাকার ব্যাংকগুলোতে স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা খুলেছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪৭টি হিসাব। আর শহরে খুলেছে ৫ লাখ ৯১ হাজার হিসাব।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের মনোভাব তৈরি করতেই আমরা স্কুল ব্যাংকিং শুরু করেছিলাম। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের এ আগ্রহ বাড়ছে। এখন প্রায় সাড়ে ৮ লাখ শিক্ষার্থীর ব্যাংক হিসাব আছে। যেখানে সঞ্চিত আছে সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা, যা দিয়ে নতুন দুটি ব্যাংক খোলা সম্ভব।’
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক স্কুল ব্যাংকিংয়ের জন্য নিয়মাবলী জানিয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল সঞ্চয়ের মাধ্যমে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়া। এর পরের চারবছর এর বিস্তৃতি ছিল ব্যাপক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্কুল ছাত্রছাত্রীদের হিসাব খুলতে একটা নীতিমালাও তৈরি করে দেয়। শুরুতে ১০ টাকা দিয়ে হিসাব খোলা হলেও পরে এ হিসাব খুলতে ১০০ টাকা জমা রাখতে বলা হয়। এসব হিসাব সাধারণ চলতি হিসাবেও রূপান্তরের সুযোগ আছে। কোনো কোনো ব্যাংক আলাদা কাউন্টার বা ডেস্ক খুলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এখন এ সেবা দিচ্ছে। এমনকি ব্যাংকগুলো কোনো এক নির্ধারিত দিনে স্কুলে গিয়েও শিক্ষার্থীদের হিসাব খুলে দিচ্ছে। স্কুল ব্যাংকিংয়ে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ক্যাম্পেইন করেছে রাজধানীর বেশ কিছু স্কুল ও বেসরকারি ব্যাংক। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বেশ কয়েকটি বিভাগীয় শহরে স্কুল ব্যাংকিং সেমিনার ও ব্যাংক হিসাব খোলাতে মেলার আয়োজন করা হয়।
এদিকে, কৃষকের ১০ টাকার হিসাবের পরিমানও প্রায় ১ কোটির কাছাকাছি। মার্চ শেষে এ হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭ লাখ ৫১ হাজার ৪৯৫ এ। যেখানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থাৎ কৃষকসহ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট হতে অনুদানপ্রাপ্ত দুঃস্থ ব্যক্তি, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী শ্রমিক, আইলা দুর্গত ব্যক্তি, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন শ্রমিকের হিসাব দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ১ হাজার ৬৫। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১ কোটি ৫০ লাখ ৯২ হাজার ৩৮০।
কৃষকের ব্যাংক একাউন্টগুলোকে সচল করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। যে তহবিলে এখন পর্যন্ত ১৩৭ কোটি টাকা আছে। এখান থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকরা ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে এবং করছে।

