ঢাকাMonday , 18 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রতিশ্রুতির ফাইলে বন্দি আশুগঞ্জ পৌরসভা

Link Copied!

Ashugoanjব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ১৯৯০ সাল থেকেই চলছে আশুগঞ্জ পৌরসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি। চলছে মন্ত্রণালয়ে ফাইল চালাচালি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে কয়েক দফা ফাইল পাঠানোর পরও ফেরত আসে বার বার। ৯০ এর জাতীয় পার্টি সরকার থেকে শুরু করে পরবর্তী সব সরকার প্রধান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জকে পৌরসভা করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ২৫ বছর পর এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২০ জুলাই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৫১ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করতে এসে পৌরসভা করার ঘোষণা দেন। তবে এখনও তা প্রতিশ্রুতির ফাইলেই বন্দি হয়ে আছে।
এলাকাবাসী ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারের পৌরসভা গঠন নীতিমালা-২০০৯ এর আইন অনুযায়ী নতুন কোনো পৌরসভা গঠনের জন্য প্রস্তাবিত এলাকার জনসংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হাজার, কর্মক্ষম জনসংখ্যার শতকরা ৭৫ শতাংশ অকৃষি পেশায় নিয়োজিত এবং তিন বছরের গড় রাজস্ব আয় ২০ লাখ হলেই পৌরসভার গঠনের প্রস্তাব করা যাবে। বর্তমানে আশুগঞ্জ পৌরসভা এলাকার জনসংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৮৩ জন এবং এখানকার কর্মক্ষম জনসংখ্যার শতকরা ৭৮ শতাংশ মানুষ অকৃষি পেশায় নিয়োজিত এবং গত তিন বছরের গড় রাজস্ব আয় ২২ লাখ টাকা।
এসব নীতিমালা জটিলতার কারণে বার বার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবনা ফাইল ফেরত আসে জেলা প্রশাসনের কাছে। জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে সর্বশেষ চলতি বছরের ৭ মে সব শর্ত পূরণ করে আবারও ফাইল পাঠানো হয় জেলা প্রশাসনের কাছে। জেলা প্রশাসন যাচাই বাছাই করে ফাইল পাঠাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে।
এদিকে, চট্টগ্রামের পর দেশের দ্বিতীয় বন্দরনগরী হিসেবে পরিচিত আশুগঞ্জে একের পর এক গড়ে উঠছে সরকারি ও বেসরকারি শিল্প-কারখানা। আশুগঞ্জে রয়েছে আন্তর্জাতিক নৌবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড, খাদ্য গুদাম, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র মৈত্রী সেতু, শহীদ হাবিলদার আব্দুল হালিম রেল সেতু, পদ্মা অয়েল ডিপো, চার শতাধিক চাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্প কারখানা।
এছাড়াও আশুগঞ্জের মেঘনা নদীর ওপর চলছে দ্বিতীয় রেলওয়ে সেতু নির্মাণ কাজ। হাওরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধান ও চালের মোকাম রয়েছে আশুগঞ্জে। পাশপাশি সরকারিভাবে ধান-চাল কেনা-বেচার উল্লেখ্যযোগ্য স্থান হিসেবে পরিচিত আশুগঞ্জ খাদ্য গুদাম। এই উপজেলার চাতালে কাজ করছেন ২০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। এই এলাকার সব শিল্প প্রতিষ্ঠান বিবেচনা করে আশুগঞ্জকে পৌরসভা করা হলে সরকার লাভবান হবে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ শহর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মো. গোলাম হোসেন ইপটি জানান, ২৫ বছর যাবত বিভিন্ন সরকার আশুগঞ্জকে পৌরসভায় উন্নীত করার ঘোষণা দিলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই বার আশুগঞ্জকে পৌরসভা ঘোষণা করেছেন।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার আশুগঞ্জকে বিশেষ অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে। এছাড়া প্রতি বছর জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে আশুগঞ্জ উপজেলার শিল্প প্রতিষ্ঠান। এতো কিছুর পরও আশুগঞ্জ পৌরসভা বাস্তবায়িত না হওয়ায় হাতাশা প্রকাশ করে দ্রুত পৌরসভা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার দাবি জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক ড. মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন জানান, কিছু ঘাটতি থাকার কারণে থাকায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে পৌরসভা প্রস্তাবনা ফাইলটি কয়েকবার ফেরত এসেছে। তবে সব ঘাটতি পূরণ করে মন্ত্রণালয়ে আবারও ফাইল পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। অচিরেই আশুগঞ্জ পৌরসভা বাস্তবায়নে কাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।