ঢাকাMonday , 18 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানব পাচারের পেছনে শতাধিক দালাল চক্র

Link Copied!

Human Traffickingনিজস্ব প্রতিবেদক : অনেক টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করছে দালাল চক্র। তাদের ফাঁদে পরেই মানব পাচারকারীদের হাতে পড়ছে ভাগ্যান্বেষণের স্বপ্নে বিভোর তরুণরা। জীবন বাজি রেখে সমুদ্রপথে যাত্রা করছে দূর দেশে তারা। মানব পাচারে সারাদেশে এমন শতাধিক দালাল চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। তাদের তালিকা ধরে শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান। এমন কয়েকটি চক্রের সন্ধানে রাজধানী ও চট্টগ্রামসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চলছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ফকিরপুরের হোটেল শেল্টারে অভিযান চালিয়ে তিন দালালকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব -৩। এরা হলো, বরিশালের বাকেরগঞ্জের দেলছের আলীর ছেলে আব্দুল কুদ্দুস মৃদা (৩৫), জামালপুরের বড়ুয়া মারীর নর্দম উদ্দিনের ছেলে মো. বিপ্লব (২০) ও বরিশালের বাকেরগঞ্জের শাহজাহান বীরের ছেলে জাফর (২১)। এ সময় মালেয়েশিয়া ও ইরানে পাচার করার জন্য নিয়ে আসা আটজনকে উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দালালদের কাছ থেকে জাল পাসপোর্ট, পাসপোর্ট জালিয়াতির জন্য ছবি, স্ক্যানার, প্রিন্টার, সিপিইউ-সহ মানব পাচারের জন্য রক্ষিত নানাবিধ দলিলাদি জব্দ করা হয়।
র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন,‘ থাইল্যান্ডের গহীন জঙ্গলে সম্প্রতি মানব পাচারকারীদের নৃশংসতা ও নারকীয় গণহত্যা সারাবিশ্বের বিবেকবান মানুষকে নাড়া দিয়েছে। দেশের সংঘবদ্ধ শতাধিক মানব পাচারকারী চক্র উন্নত বিশ্বে লোক পাঠানোর নাম করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। এ ধরনের অপরাধীদের ধরতে বরাবরই র‌্যাব তৎপর থাকলেও বর্তমানে অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে।’
জানা গেছে, ইতোমধ্যে চক্রের অর্ধশতাধিক সদস্যকে র‌্যাব ও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তবে এসব চক্রে অন্তত এক হাজার সদস্য রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
র‌্যাব সূত্র জানায়, বাংলাদেশের নিরীহ লোকজন দালাল ও প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে জায়গা জমি বিক্রি করে বিদেশ গিয়ে পাচারকারীদের ব্যাপক নির্যাতনে মারা যাচ্ছে। কেউবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হচ্ছে, আবার কেউবা সেখানে মানবেতর জীবন যাপন করছে। কেউবা জেল খেটে সর্বস্ব খুইয়ে দেশে ফেরত আসছে। এ সংক্রান্তে যে কোন তথ্য ও অভিযোগ র‌্যাব ব্যাটালিয়নসমূহ এবং র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করার পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাচার হওয়া মানুষ উদ্ধার ও অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সারাদেশে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
র‌্যাব সূত্র জানায়, মানবপাচারকারী চক্রের শীর্ষ পর্যায়ের পাঁচজন বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় মারা গেছে। কিন্তু এ থেকেও অপরাধীরা শিক্ষা নেয়নি। দিন দিন তারা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে।
র‌্যাবের লিগ্যাল এ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মো. মাকসুদুল আলম বলেন, ‘সারাদেশেই ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে মানব পাচারকারী দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার করার চেষ্টা করছে। বিদেশে যেতে ইচ্ছুক এমন পুরুষ ও নারীদের টার্গেট করে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম, টেকনাফ ও কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে রাখছে। এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হলেও তারা বিকল্প তৈরি করছে। এ কারণে জনগণকে সচেতন করতে র‌্যাব কিছু উদ্দ্যোগ নিয়েছে। তবে র‌্যাব-পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানের কারণে তারা কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে কাজ করছেন।
সূত্র জানায়, মানব পাচারে দেশের দালাল চক্রের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এসব চক্রের সদস্যরাই নৌকায় করে থাইল্যান্ড ও মালেয়েশিয়ায় মানব পাচার করছে। এদের মাধ্যমেই কক্সবাজার, টেকনাফ, সেন্টমার্টিন ও থাই উপকুলে পৌঁছানোর নৌপথ চালু করেছে। এই চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারীরা এদের মাধ্যমে সুযোগ নিচ্ছে।