বিনোদন ডেস্ক : বাংলা লোকসঙ্গীতের অন্যতম প্রধান ধারা ‘ভাওয়াইয়া’ গান। জনপ্রিয় এই ধারাটির বিকাশ অব্যাহত থাকলেও এর যথাযথ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রসারের ক্ষেত্রে গুরুত্বের অভাব ও সঠিক পদ্ধতি প্রয়োগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আলোচ্য বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী নানামূখী উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ঢাকায় কেন্দ্রেীয় পর্যায়ে শতাধিক প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে প্রশিক্ষণ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় পঞ্চগীতিকবির ভাওয়াইয়া গানের তিনমাসব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করে।
গত ২ জানুয়ারি বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের ৯টি জেলার বাছাইকৃত, ভাওয়াইয়া শিল্পী, যন্ত্রী ও ভাওয়াইয়া সংগঠনগুলো নিয়ে দিনব্যাপী ভাওয়াইয়া গান পরিবেশন ও সমীক্ষণ ‘ভাওয়াইয়া গান সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রসার কর্মসূচি বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হয়। গত ১৭ জানুয়ারি ২০১৫ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে দেশের বিশিষ্ট ভাওয়াইয়া শিল্পী, সংগঠক, আলোচক ও গবেষকদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ‘ভাওয়াইয়া গানের সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রসার কর্মসূচি’ বিষয়ক ২য় গোলটেবিল বৈঠক।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে এবং প্রশিক্ষণ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে ভাওয়াইয়ার পঞ্চগীতিকবি আব্দুল করিম, মহেশ চন্দ্র রায়, হরলাল রায়, এ. কে. এম. আব্দুল আজিজ ও কছিম উদ্দিনের ‘জীবন ও গান বিষয়ক’ কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে মোঃ এরফান হোসেন এর পরিচালনায় “ভাওয়াইয়া সন্ধ্যা”র আয়োজন করা হয়।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সোনা ফলা দেশের মাটি, ময়না সাজিলরে, মুখ-কোনা তোর ডুবো ডুবোরে, তিস্তা নদীর পারে পারে রে এবং নয়া বৌ মোর নাইওর যায় গানের কথায় দলীয় সঙ্গীত, একক সঙ্গীতে-শিল্পী ছাবিহা আক্তার সোনালী-কানিছাত গাড়ছু আকাশী আকালী, মোঃ মনসুর রহমান-ওরে জ্যাঠোত হইলো ধউলী বান, শাম্মী আক্তার হ্যাপী-ধীরে বোলাও গড়ীরে গাড়ীয়াল, মোঃ আবু হাসান-ধ্যাত চ্যাংরা তুই কি কাম করিলু, মীরা চক্রবর্তী-ও মুই মনের হাউসে না করো সাজ, আরিফা আক্তার কাঁকন-হ্যারে দ্যাওয়ায় ধরিল শাওন মাসে, মোঃ মুজাম্মেল হক-ওরে সিমশিমানী দেওয়ার ঝড়ি, আরিফুর রহমান চৌধুরী পলাশ-ওরে মাও বড় ধন সোনারে, সেলিনা পারভীন মুক্তা-জঙ্গল পোড়া যায়রে, নাসরিন ফেরদৌস চমন-ও মোর কালারে, কামারুন্নার কলি-তুই ক্যানে ডাকিলু নিশা রাইতে, আমিনুল ইসলাম শাহীন-একে তো বাঁশ বাড়ির মশা, দ্বৈত সঙ্গীত শিল্পী গীতা পালমা ও মুহাম্মদ নাজমুল হক-ওরে ঘরের পাছোত মোর হরিয়ারে তাঁতি এবং মোঃ শামীম হোসেন ও লাভলী শেখ-নাইওর ছাড়িয়া যাওরে বন্ধু।
১৫ মে সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় সঙ্গীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর উদ্যোগে এবং প্রশিক্ষণ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় তিনমানব্যাপী শিশু সঙ্গীত বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদপত্র বিতরণ ও সঙ্গীতানুুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক জনাব লিয়াকত আলী লাকী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম সিমিন হোসেন রিমি, এমপি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন একাডেমীর প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালক জনাব মোঃ শাওকাত ফারুক। অনুষ্ঠানে ১২০জন প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র প্রদান শেষে প্রশিক্ষণার্থী শিশুদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সঙ্গীতানুষ্ঠান ।

