ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কলন্দা তালদিঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাঁশের বেড়া আর টিনের চালার একটি ঘরে কোনো রকমে পাঠদান চলছিল। কয়েক বছরে সেই বেড়া ও টিনের চালাও ভেঙে যায়। সেই বিদ্যালয় ঘিরেই চলছে ছেলে-মেয়েদের ছোটাছুটি।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী দীপক রায় বলে, ‘ভাঙা ঘরে আমাদের পড়ায় একেবারেই মন বসে না। সবাই ভালো স্কুলে পড়ে, আর আমাদেরটা ভাঙা। এ কারণেই আমাদের স্কুলটিকে সবাই ভাঙা স্কুল বলে।’
এলাকাবাসী জানান, ১৯৯০ সালে বালিয়াডাঙ্গীর কলন্দা তালদিঘি গ্রামের যুবকেরা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৮ সালে বিদ্যালয়টি মাসিক বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে সরকারি অনুদানের জন্য তালিকাভুক্ত (এমপিওভুক্ত) হয়। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণায় এ বিদ্যালয়টিও জাতীয়করণ হয়। কিন্তু বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ১০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৬ ফুট প্রস্থের টিনের একচালা ঘরে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বাঁশ ও খড়ের বেড়া দিয়ে ভাগ করে তৈরি করা হয়েছে দুটি শ্রেণী কক্ষ। কক্ষের বেড়াগুলো একেবারেই জরাজীর্ণ। একপাশ থেকে অপর পাশের সবকিছু দেখা যায়।
সম্প্রতি বিদ্যালয়ে ৮-১০ ফুটের একটি টিনের ঘর তৈরি করা হয়েছে। তবে এই ঘরে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করানো হয় না। বৃষ্টি এলে শিক্ষার্থীরা এখানে আশ্রয় নেয়। বিদ্যালয়ে রয়েছে ২০ জোড়া টেবিল। এগুলোর অর্ধেক ভাঙা। বিদ্যালয়টিতে নেই কোনো সাইনবোর্ড। নেই কোনো শৌচাগার। মূল্যবান কাগজপত্র ও খাতা সংরক্ষণের জন্য কোনো আলমারিও নেই। জরুরি কাগজপত্র প্রধান শিক্ষক তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীসহ পাঁচটি শ্রেণীতে ১৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রধান শিক্ষকসহ এখানে চারজন শিক্ষক থাকলেও একজনকে প্রেষণে পাশের বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়টির এমন দশায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দিন দিন কমে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমল চন্দ্র জানান, বিদ্যালয়টি সরকারি হওয়ার পরও অবকাঠামোর উন্নয়ন হচ্ছে না। আজ কাল করে সময় পার করা হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ালেখা করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নারায়ণ রায় জানান, প্রতি বছর নিজ উদ্যোগে স্কুলেল বেড়া মেরামত করা হয়। কিছুদিন পর সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। স্কুলের অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদন হলেও কাজ শুরু হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রিয়াজুল ইসলাম জানান, শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়ে ভালো পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। বিদ্যালয়টির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে জানান তিনি।

