নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গত ৭ এপ্রিল ভিসি অধ্যাপক ড. রফিকুল হক পদত্যাগ করার ৩৪ দিনেও কাউকে নিয়োগ দেয়নি সরকার। চলতি মে মাসে বেতন না পেয়ে কর্মরত ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ এবং এ নিয়ে তারা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে।
অপরদিকে, ৬১ শিক্ষক পদত্যাগের ফলে শিক্ষার্থীদের মার্কশিট, স্টাইফিন্ড, শিক্ষাসফর আটকে রয়েছে।
সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেতন ভাতার দাবিতে কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে অবস্থান ধর্মঘট করেছে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারীরা।
এ সময় তারা বলেন, প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহের ভেতর সব কর্মচারী তাদের বেতন পেয়ে থাকে। কিন্তু মে মাসের দশ দিন চলে গেলেও আমরা এখনও বেতন পাইনি। ২০ এপ্রিল বিলে ভিসির স্বাক্ষর করার কথা ছিল। কিন্তু ভিসি না থাকায় ওই বিল পাস হয়নি। ফলে বেতনও তুলতে পারেননি আমরা কেউই।
দ্রুত এ বিষয়ের কোনো সুরহা করা না হলে বুধবার থেকে প্রশাসনিক ভবন ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ঘেরাও করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করবে বলে জনান কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি আব্দুল খালেক।
এদিকে, মাস্টাররোল এবং অ্যাডহকে কর্মরত বেতন না পাওয়ায় অর্থকষ্টে রয়েছে কর্মচারীরা।
নাম বলতে অনিচ্ছু এক কর্মচারী বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনের উপস্থিতির জন্য টাকা পেয়ে থাকি। মাসের ১০ তারিখ পেরিয়ে গেলেও এখনও বেতন না পাওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে ভুগছি।’
অপরদিকে, ৩৪ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদটি শূন্য রয়েছে। অতি দ্রুত ভিসি নিয়োগ না দেয়া হলে মে মাসে বেতন তুলতে পারবে না শিক্ষক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা।
গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের আন্দোলন চলাকালীন অবস্থায় ৬১ শিক্ষককের পদত্যাগের ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি এখনো কমেনি। মার্কশিট, স্টাইফিন্ড, শিক্ষাসফর, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, পরিচয়পত্র না দেয়াসহ বিভিন্ন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, অতিদ্রুত ভিসি নিয়োগ দেয়াসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন পদে শিক্ষকদের ফিরিয়ে না আনলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পরবে।
বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন অফিসে গিয়ে দেখা গেছে অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে উপস্থিত নেই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আব্দুল খালেক বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি আগামীকাল (মঙ্গলবার) এ বিষয়টি দেখব।

