নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রয়োজনীয় অর্থবরাদ্দ না দেয়ায় অর্থ সঙ্কটে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। দেশের অন্যতম এ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে সংশোধনী বাজেটে অর্থ বরাদ্দ না দেয়ায় আটকে আছে শিক্ষকদের সাড়ে তিন কোটি টাকার পারিতোষিক (খাতা দেখার সম্মানি) ভাতা। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মৌলিক প্রয়োজনীয় শিক্ষা আনুষঙ্গিক ও সাধারণ আনুষঙ্গিক খাতে ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার ঘাটতি রয়ে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল বাজেট ধরা হয়েছিল ৪৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। প্রারম্ভিক উদ্বৃত্তসহ (বিগত বছরের অব্যবহিত) এ অর্থ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে চলতি অর্থবছরের আয় ধরা হয়েছে ১৪ কোটি টাকা। নিজস্ব আয়ের বাইরে বাকি টাকার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে (ইউজিসি) পাওয়া গেছে ৩৩ কোটি টাকা। রাজস্ব আয় (বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় আর ইউজিসির বরাদ্ধকৃত টাকা) আর সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ পাওয়ার আশায় ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ঘাটতি রেখেই মূল বাজেট অনুমোদন দেয়া হয়। কিন্তু সংশোধিত বাজেটে বরাদ্দ না পাওয়ায় চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার দুইমাস আগেই অর্থ সঙ্কটে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
সূত্র জানায়, শিক্ষকদের পারিতোষিক খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় গত ২৫ মার্চ অর্থ কমিটির ২৫তম সভায় শিক্ষকদের মোট পাওনা থেকে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৪০ হাজার ৩৪২ টাকা পারিতোষিক ধরার পরও এ খাতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ঘাটতি রয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, ঘাটতির কথা জানিয়ে ইউজিসিকে চিঠি দিলেও সংশোধনী বাজেটে বরাদ্দ না পাওয়ায় শিক্ষকদের পারিতোষিক ভাতা বাবদ ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার ২৫৮ টাকা পরিশোধ করতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে চাহিদা মেটানোর জন্য এক খাতের টাকা অন্য খাতে সমন্বয় করা হচ্ছে।
বাজেট ঘাটতি হওয়ায় বিভিন্ন খাতের প্রয়োজন মেটানোর জন্য সিন্ডিকেটের অনুমতি ছাড়াই এক খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিষয়টি স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপ-পরিচালক (ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস) ড. সৈয়দ আহমেদ বলেন, ‘খাতের সমন্বয় না করলে অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচল অবস্থা বিরাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা নির্দিষ্ট সময় পরপর হয়। এজন্য অপেক্ষাকৃত কম প্রয়োজনীয় খাত থেকে অধিক প্রয়োজনীয় ঘাটতি খাতে বাজেট সমন্বয় করা হচ্ছে। সমন্বয় খাতগুলো সিন্ডিকেট সভা বসলেই অনুমোদন নেয়া হবে।’
ইউজিসির বাজেট বরাদ্দে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক প্রয়োজনের এক তৃতীয়াংশ বাজেটও ইউজিসি থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। বিগত ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে সংশোধিত বাজেটে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও এ বছর এক টাকাও বরাদ্দ দেয় নাই। বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন কর্তৃক জবির আয় ধরা হয়েছিল প্রারম্ভিক উদ্বৃত্তসহ ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কিন্তু আয় তার থেকে ২৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা কম হয়েছে। আয় করে ব্যয় নির্বাহ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব না।’
২০১৫-১৬ প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আগামী অর্থবছরের জন্য ইউজিসির কাছে ৬৩ কোটি ১০ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরমধ্যে শিক্ষকদের পারিতোষিক ভাতা মেটাতে ৮ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।’
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘ঘাটতি বাজেট পূরনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সংশোধনী বাজেটে কোনো বরাদ্দ না দেয়ার ব্যাপারটি অবগত করা হলে তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর যাবৎ ঘাটতির মধ্যেই চলছে।’
বাজেটের সমন্বয় ব্যাপারটি জানতে চাইতেই তিনি সাক্ষাতে কথা বলতে বলেন।

