কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে কপিরাইট করে নকল বই দেদারছে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এতে লেখক, প্রকাশক ও বই বিক্রেতারা চরম বিপাকে পড়েছেন। এ যেন দেখার কেউ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক শ্রেণীর অসাধু চক্র নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার করে বাজারে সবচেয়ে বেশি চলমান বই হুবহু নকল বই স্বল্পমূল্যে বাজারজাত করছেন। দেখতে একই রকম হলেও মূল বইয়ের পাবলিসিটি দিয়েই নকল বই দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। এতে বই লেখক ও প্রকাশকের কষ্টে অর্জিত মূল বই বাজারজাত করতে পারছে না।
তাছাড়া, মূল বইয়ের মূল্য আর নকল বইয়ের মূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষ বই কিনতে গিয়ে লাইব্রেরিতে বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। কারণ হিসেবে জানা যায়, দুরবার কমপজিসান (রাইটিংপাঠ) মূল বইটির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অর্ধেক মূল্যে নকল বই বাজারজাত করছে। ফলে মূল বই বিক্রি করে অনেক ব্যবসায়ী জনগণের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। কেননা মূল বইয়ের দামের চেয়ে ৫০ টাকা কমে নকল বই দেদারছে পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে বই ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েই মূল বই বাদ দিয়ে নকল বই বাজারজাত করছেন। ফলে অসাধু চক্রের লোকজন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে।
গত সোমবার ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় দুরবার কমপজিসান (রাইটিংপাঠ) বইয়ের লেখক ও প্রকাশক পুলিশের সহায়তায় বাজার মনিটরিং কতে এসে হোসেনপুর আর্দশ লাইব্রেরি থেকে নকল বই জব্দ করলেও মূল হোতা ধরাছোঁয়ার বাইয়ের থেকে যায়।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে ছাত্রশখা লাইব্রেরির মালিক মো. ফুল মিয়া, মাসুদ মিয়াসহ অনেকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বাজারে সবচেয়ে বেশি চলমান বই কপিরাইট করে নিম্নমানের কাগজ দিয়ে কম মূল্যে নকল বই বাজারজাত করছে। ফলে মূল বইয়ের পাইকারী দামের চেয়ে ৫০ টাকা কমে নকল বই অন্যরা বিক্রি করায় ক্রেতাদের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। এতে বাধ্য হয়ে ভাউচারবিহীন নকল বই তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বেগম বদরুন্নাহার ইয়াসমিন জানান, বাজারে নকল বই বিক্রির বিষয়ে অবগত থাকলেও এসব বন্ধ করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা না থাকায় কিছুই করার নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতির ভবিষ্যৎ শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য নকল বই বন্ধ করে শিক্ষার সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি উঠেছে সুধী মহলের পক্ষ থেকে।

