বিনোদন ডেস্ক : উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন মাত্র। বয়স খুব একটা বেশি না হলেও, উপস্থাপনা, অভিনয় কিংবা নৃত্যে অনেকের চেয়েই এগিয়ে আছেন তিনি। কথা হচ্ছে ‘ইভটিজিং’ ছবির ছোট্ট সেই মেয়ে মারিয়া চৌধুরীকে নিয়ে। যার মাধ্যমে পরিচালক কাজী হায়াৎ উন্মোচন করেছিলেন নারী নির্যাতনের এক ভয়ংকর অধ্যায়। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পরপরই নির্মাতাদের অনেকেই মারিয়ার বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এই মেয়েটি হবে পরবর্তী শাবনূর কিংবা মৌসুমী।
মিডিয়াতে মারিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিলো মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে। এতটুকু বয়সের একটি মেয়ে টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে একটানা উপস্থাপনা করে যাচ্ছে, বিষয়টা বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও মারিয়া ঠিকই তা করে দেখিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে মারিয়া বলেন, ‘প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই সাড়ে চার বছর বয়সে। সেটা ছিলো এটিএন বাংলায় শিশুকিশোর বিষয়ক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘শাপলা শালুক’। তারপর বিটিভির ‘আনন্দ ভূবন’ অনুষ্ঠানেও উপস্থাপনা করেছি।’
উপস্থাপনা দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মারিয়ার স্বপ্ন ছিলো চলচ্চিত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। আর এ জন্যেই নিজেকে আস্তে আস্তে তৈরি করেছেন। রাজু আহমেদ পরিচালিত ‘অসম প্রেম’ ছবিতে অভিনয় করার বিষয়টি চূড়ান্ত থাকলেও, শেষ মুহুর্তে এইচএসসি প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষার জন্যে তা বাতিল করতে হয়। মারিয়া বলেন, ‘ছবিটির কাজ শুরুর আগেই আমার অভিনয় করার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু পরীক্ষা চলে আসায় ছবি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেই। অবশ্য পরিচালক জানিয়েছেন তার পরবর্তী ছবিতে আমি থাকছি।’
এদিকে গেল মাসে সোহানুর রহমান সোহানের পরিচালনায় ‘অবলা নারী- ওয়াও বেবি ওয়াও’ শিরোনামের একটি ছবির শুটিং শুরু করেছেন মারিয়া। এখনে প্রধান নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করছেন তিনি। তার বিপরীতে আছেন নবাগত নায়ক তুর্কি ইমরান। ছবিতে নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে মারিয়া বলেন, ‘এখানে আমি গ্রামের সহজ সরল একটি মেয়ে। কিন্তু ঘটনাচক্রে আমার চরিত্রের পরিবর্তন ঘটে। যে কিনা সমাজের বিভিন্ন অন্যায়-অত্যাচার ও জঞ্জালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এক রূপ ধারণ করে।’ সম্প্রতি কক্সবাজারে ছবিটির প্রথম লটের চিত্রধারণের কাজ শেষ হয়েছে।
চিত্রনায়িকা শাবনূরের অন্ধ ভক্ত মারিয়া। শাবনূর অভিনীত বেশিরভাগ ছবিই দেখে ফেলেছেন কলেজে ভর্তি হবার আগেই। তারমানে এই নয় যে, মারিয়া শাবনূরের মতো করে অভিনয় করতে চান। মারিয়ার সোজাসাপ্টা মন্তব্য, ’আমি কাউকে অনুকরণ করতে চাই না। তবে তাদের দেখানো পথেই চলতে চাই।’ অভিনয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপনেও মারিয়ার হাতেখড়ি হয়েছে। রেদওয়ান রনি নির্দেশনায় ‘মেরিল আদরে গড়া বাংলাদেশ’ নামের একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন তিনি। বিজ্ঞাপন নিয়ে মারিয়া বলেন, ‘বিজ্ঞাপনের কাজটা কঠিন হলেও, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ করা যায়। তাই আমিও কাজ করতে আগ্রহ পাই। চলচ্চিত্রে কাজ করার পাশাপাশি বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে।’
মারিয়ার বাবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকায়, মা ও বড় ভাইয়ের সঙ্গে রাজধানীর কাফরুলে মারিয়ার বসবাস। শহীদ আনোয়ার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে থেকে ২০১৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নিচ্ছেন।

