ঢাকাFriday , 24 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৯ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ, পরিত্যক্ত ২

Link Copied!

Kurigram-Primary-Schoolময়মনসিংহ প্রতিনিধি : গৌরীপুর উপজেলার সরকারি ও সদ্য জাতীয়করণসহ ১৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ও ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এসব বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বিকল্প ভবনের ব্যাবস্থা না থাকায় শিক্ষকরা ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাচ্ছেন। এর মধ্যে কিছু বিদ্যালয়ে ভবন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা এক বেঞ্চে ঠাসাঠাসি করে বসছেন। আবার অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আকাশে ঝড়-বৃষ্টির আলামত দেখলেই ভবন ধসের আশঙ্কায় বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেন। আবার ভবন ধসের আশঙ্কায় কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। এতে করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
গৌরীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেলিহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘাটেরকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বর্ধনপাড়া সরকারি বিদ্যালয়, সোনাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লংকাখলা প্রাথমিক বিদ্যালয়, শালীহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরযূবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডেকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুনবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কান্দুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুজিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোরহান উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পেচাংগিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রমোদবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাবদুল সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সুতিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ১৯টি বিদ্যালয়ের ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চি‎হ্ণিত করা হয়েছে।
এছাড়াও উপজেলার রামগোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাতপাই আহাম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় চার হাজারের অধিক। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অচিরেই সংস্কার করা দরকার। তা না হলে যেকোনো সময় ভবন ধসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত বিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, এলজিইডির এসব বিদ্যালয়গুলোর ভবন প্রায় ১২ থেকে ১৫ বছর আগে নির্মিত। প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে বিদ্যালয়ের ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। পাঠদান ভবন ও অফিস কক্ষের দেয়াল ও ছাদে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। কয়েকটি বিদ্যালয়ের দেয়াল ও ছাদ বেয়ে বৃষ্টির পানি জমা হচ্ছে পাঠদানের ভবনের ভেতরে। কোনো কেনো বিদ্যালয়ের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়ে রড বেড়িয়ে এসেছে। ভিমসহ একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভবন ধসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। আর এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, কিছু দিন আগে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের সময় দেয়ালের পলেস্তার খসে পড়ে ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফারুক আহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে শ্রেণীকক্ষে পাঠদানের সময় তাদের মাঝে একটা আতঙ্ক বিরাজ করে।
তবে বিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবন সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। এসব ভবনে পাঠদান বন্ধ করলে অধিকাংশ বিদ্যালয়ই বন্ধ করে দিতে হবে। আর শিক্ষার্থীরাও অনেকটা বাধ্য হয়েই মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করছে।
উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মোট ১১১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ভবনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে অনেক সময় আকাশে ঝড়-বৃষ্টির আলামত দেখলেই ভবন ধসের আশঙ্কায় বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেয়া হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘অচিরেই বিদ্যালয় ভবনটি সংস্কার করা প্রয়োজন। তা না হলে যেকোনো সময় ভবন ধসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।’
উপজেলার রামগোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা ইয়াসমিন জানান, বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৮০ জন। কিন্তু পাঠদানের একটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় শিক্ষার্থীরা প্রতি বেঞ্চে ঠাসাঠাসি করে বসছে। ফলে গরমের মধ্যে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলার সাতপাই আহাম্মদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘গত এক বছর আগে বিদ্যালয়য়ের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ অবস্থায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকলেও বাধ্য হয়েই পরিত্যক্ত ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে।’
গৌরীপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহির উদ্দিন বলেন, ‘১৯টি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর ভবন সংস্কার ও ২টি পরিত্যক্ত বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
গৌরীপুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কারের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের থেকে কাছে কোনো তালিকা বা প্রস্তাব আসেনি। আসলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।’