ঢাবি প্রতিনিধি : ‘সাব্বির সজীব নামে ঢাবির (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) একজন ছাত্র ঘটনাস্থল থেকে অনেকগুলো ছবি তুলেছিলেন। তিনি জানিয়েছেন- ভিসি স্যারের নির্দেশে ছবিগুলো শেয়ার করতে পারছেন না। কার স্বার্থে ভিসি স্যার ছবিগুলো প্রকাশে বাধা দিচ্ছেন? তবে কি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিরাও এ ঘটনায় জড়িত?’-এমনটাই প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হাসান তারেক।
তিনি আরো বলেছেন, ‘এমন বর্বরোচিত ন্যাক্কারজনক ঘটনায় প্রক্টর, পুলিশ, ভিসি যখন একই অবস্থান নেন তখন লজ্জিত ও সংক্ষুব্দ হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকেনা।’
শনিবার দুপুর বারোটায় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে পহেলা বৈশাখে টিএসসিতে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করে বলা হয়, ‘নববর্ষে নারী নির্যাতনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বারবার মিথ্যাচার করেছেন। মিথ্যার একটা সীমা থাকে কিন্তু প্রক্টর মহোদয়ের মিথ্যাচারের কোন সীমা-পরিসীমা নেই। আমরা দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ-মিথ্যাচারী প্রক্টরের অপসারণ চাই।’
লিখিত বক্তব্যে হাসান তারেক আরো বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে প্রক্টর বিভিন্ন গণমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে বারংবার মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেছেন- লিটন নন্দী ছাড়া আর কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই এবং সিসিটিভিতেও প্রমাণ নেই। প্রক্টর আরো বলেছেন- দুপুরের পর থেকে ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে কোনো গাড়ি চলেনি। অথচ এমন মিথ্যাচারের সাক্ষী সেদিনের হাজার হাজার জনতা।’
অভিযোগ তীর পুলিশের দিকেও। অভিযোগে বলা হয়, ‘ঘটনার দিন কয়েকজন নিপীড়ককে আটক করে পুলিশে দেয়া হলেও তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এছাড়া সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিলে কয়েকটি জেলায় থানা থেকে ফোন করে কর্মসূচী পালনে নিষেধ করা হয়। তবে কি পুলিশ অপরাধীদের আড়াল করতে চায়? নিপীড়কদের বাঁচাতে পুলিশ এত তৎপর কেন?’
সংবাদ সম্মেলন থেকে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- দায়িত্বপালনে ব্যর্থ-মিথ্যাচারী প্রক্টরকে অপসারণ করতে হবে, সংঘটিত যৌন নিপীড়কদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে, কর্তব্যরত পুলিশের দায়িত্বে ধারাবাহিক অবহেলার নির্মোহ তদন্ত ও বিচার করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে হাইকোর্ট নির্দেশিত যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে ও বাসস্থান-শিক্ষাঙ্গন-কর্মস্থল ও গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে জাতীয়ভাবে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
দাবীগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন। সে অনুযায়ী আগামী ১৯ এপ্রিল সারাদেশে বিক্ষোভ ও সংহতি সমাবেশ। ২০ এপ্রিল সকাল ১১টায় অপরাজেয় বাংলা থেকে কার্জন হল পর্যন্ত মানববন্ধন এবং ২১ এপ্রিল সকাল ১১টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেয়া কর্মসূচি।

