ঢাকাTuesday , 27 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানের কট্টরপন্থীরা প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বিরুদ্ধে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচিরও অভিশংসন চায় তারা

Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন উদারপন্থী ও মধ্যপন্থী শিবির কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসান চাইছে। অন্যদিকে ‘পায়দারি ফ্রন্ট’ বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি স্ট্যাবিলিটি ফ্রন্টের মতো কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এই সংলাপের ঘোর বিরোধিতা করছে। তারা মনে করে ওয়াশিংটন কেবল শক্তির ভাষাই বোঝে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া উচিত।

কট্টরপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আপস বা আলোচনাকে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী বলে মনে করছেন এবং রাজপথে নিয়মিত বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘে প্রেসিডেন্টের অংশগ্রহণের পর তাঁর বিরুদ্ধে তেহরানে স্লোগান দেওয়া হয় এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি থেকে ইরানকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়। এমনকি সরকারের এই উদারপন্থী নীতির প্রতিবাদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অভিশংসন করার জন্য পার্লামেন্টে প্রস্তাব জমা দিয়েছেন কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতারা।

বিশ্লেষকদের মতে, পার্লামেন্ট, নগর প্রশাসন এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে কট্টরপন্থীদের শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও ইরানের চূড়ান্ত নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। যুদ্ধ ও শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। অতীতেও এই কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সরকার উৎখাতের সর্বাত্মক লক্ষ্য থেকে সরে এসে তুলনামূলক সীমিত কৌশলে এগোচ্ছে, যা কূটনৈতিক সমাধানের পথ কিছুটা উন্মুক্ত করেছে। তবে কট্টরপন্থীদের আগ্রাসী অবস্থান ও নানামুখী বাধা সত্ত্বেও তেহরান সরকারের একটি অংশ কাতার বা অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উদারপন্থী ও কট্টরপন্থীদের এই টানাপোড়েন বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।