সৌদি আরবে দীর্ঘকাল ধরে অবস্থানরত প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বিশেষ ধরনের পাসপোর্ট দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার ৩০০ জনের হাতে এই বিশেষ পরিচয়পত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নির্ধারিত এই পাসপোর্টের প্রথম চালান সৌদিতে পাঠানো হয়। অবশিষ্ট পাসপোর্টের কাজ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাকিদের হাতেও এসব নথি তুলে দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এই বিশেষ পরিচয়পত্র হস্তান্তরের সার্বিক অগ্রগতি চূড়ান্ত করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন অনুবিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের সাধারণ কোনো নাগরিক হিসেবে পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। তাঁদের জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা কেবল তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করবে। তবে এই বিশেষ নথির বলে তাঁরা যেমন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন না, তেমনি সৌদি আরবের নাগরিকত্ব অর্জনেরও কোনো সুযোগ থাকবে না।
পাসপোর্ট দেওয়ার এই জটিল প্রক্রিয়ার পেছনে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও শ্রমবাজারের নানা সমীকরণ জড়িত রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশের তৎকালীন পাসপোর্ট সংগ্রহ করে রোহিঙ্গারা সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এসব পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সৌদি প্রশাসন তা নবায়নের জন্য বারবার তাগিদ দিতে থাকে। দেশের বিশাল শ্রমবাজারের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব যেন না পড়ে এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন থাকে, তা নিশ্চিত করতেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এই বিশেষ উদ্যোগের বিষয়ে সম্মতি জানানো হয়।
চলতি বছরের এপ্রিলে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছিল। এরপর থেকেই যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট প্রদানের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই বিশেষ পাসপোর্টে আলাদা সিরিয়াল নম্বরের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক তথ্য যেমন আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ জাতীয় তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে তারা যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য নাগরিক সুবিধা পেতে না পারেন, সে বিষয়েও কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

