রংপুর প্রতিনিধি: আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের ডা. মুক্তা ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় রংপুর মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার ভোরে সংঘর্ষের সময় ৪ কক্ষ ভাঙচুর, ল্যাপটপসহ মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সেখানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতে ছাত্রলীগের দুইগ্রুপের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়।
এরই জের ধরে বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সরোয়ারের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগকর্মী আগ্নেয়াস্ত্রসহ লাঠিশোঠা নিয়ে ডা. মুক্তা ছাত্রবাসে হামলা চালায়। এসময় দুইপক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন।
এদের মধ্যে ছাত্রলীগ সভাপতি শহীদুজ্জামান শহীদ তার ছোট ভাই আসাদ ও ছাত্রলীগ নেতা আসিক ফেরদৌসকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় ওই ছাত্রবাসের ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪০ নাম্বর কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর করে ল্যাপটপসহ অন্যান্য মালামাল লুট করা হয় বলে জানিয়েছে ছাত্রলীগ। খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে সেখানে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে ক্যাম্পাসের একাডেমিক কমিটির বৈঠকে রংপুর মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা ও শিক্ষার্থীদের বেলা ৩টার মধ্যে হল ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. জাকির হোসেন জানান, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বুধবার বেলা ৩টার মধ্যে হল ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

