বিনোদন ডেস্ক: রূপালি পর্দার রূপালি তারকা তারা। এখন বছরের বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠান বা পার্বণ কেন্দ্রীক থাকে তাদের নানান ব্যস্ততা। কেমন ছিলো রঙিন দুনিয়ার বাংলা চলচ্চিত্রের তারকাদের পয়েলা বৈশাখ। কিভাবেই বা কেটেছে তাদের সময়ের বৈশাখের দিনের সময়গুলো। এখনইবা ইট পাথর আর কাঠের শহুরে যান্ত্রিকতার মধ্যে কিভাবে নিজেদেরকে সময় পয়েলা বৈশাখে। বাংলা চলচ্চিত্রের একঝাঁক তারকা কথা বলেছেন তাদের পয়েলা বৈশাখ নিয়ে।
ইলিয়াস কাঞ্চন
আগে পহেলা বৈশাখে মেলা হত। আমরা পুরনো ঢাকার মেলায় যেতাম। তখনতো আর রমনায় এ ধরনের পহেলা বৈশাখ বরণ উৎসব হত না। পহেলা বৈশাখে মেলায় যাওয়ার পর নাগর দোলা, মুড়ি, মুড়কিসহ বিভিন্ন বিষয় ছিল যা পহেলা বৈশাখের মূল আকর্ষণ ছিল। এখনতো পহেলা বৈশাখের সংজ্ঞা পরিবর্তন হয়ে গেছে। নতুন জেনারেশন এসেছে। তাদের কাছে পয়েলা বৈশাখের মানে অন্যরকম ফুর্তি আমোদ প্রমোদ করা। যা আমাদের সংস্কৃতিকে উল্টো পথে নিয়ে যাওয়ার পায়তারা করা ছাড়া আর কিছু নয়। একটা সময় পহেলা বৈশাখ মানে নতুন জামা কাপড়ের বিষয় ছিলনা। পয়েলা বৈশাখ যেন বাঙালির জীবনে সামাজিক ব্যাধি না হয়ে যায়। বাঙালির পয়েলা বৈশাখ বাঙালির ঐতিহ্য নিয়েই বেঁচে থাকুক।
ওমর সানি
এখনকার পহেলা বৈশাখে মানে সবকিছু ব্যবসায়িক হয়ে গেছে। ভালোবাসা, ভালো লাগা, বাঙালিয়ানা, ঐতিহ্যের ছাপ সবকিছুই ছিল। ইলিশ মাছ ছাড়া তো পহেলা বৈশাখ পালন করা যায় না। এখন মাছের যে অবস্থা আমাদের মত মানুষেরাই মাছ খেতে পারে না। সাধারন মানুষের কথাতো বাদই দিলাম। বাঙালিয়ানার পয়েলা বৈশাখে ছোটবেলার যে আমাজে ছিল তা এখন নেই বললেই চলে।
মিশা সওদাগর
আমাদের পহেলা বৈশাখ ছিল টিভি কেন্দ্রীক। টিভিতে যেসব ধরনের অনুষ্ঠান হত সেসব দেখেই আমাদের সময় কাটত। এছাড়া আমার বড় ভাই গান গাইতেন আমি তার সঙ্গে তবলা বাজাতাম। এই দিনে আমাদের বাড়িতে গানের আসর বসত। এছাড়া যখন শহর কেন্দ্রীক হয়ে গেলাম তখন আর গ্রামের মেলা, নাগর দোলা এসব বিষয় হারিয়ে গেল জীবন থেকে। যেবার রমনার বটমূলে হামলা হল সেবার আমার স্ত্রী ও ছেলে বটমূলে গিয়েছিল। আমি ছিলাম বাসায়। টিভি খুলে দেখি যে হামলা হয়েছে। তখন আমি যে কি অবস্থার মধ্যে সময় কাটিয়েছি তা বলে বোঝাতে পারব না। তবে এখন চেষ্টা করি আমার যারা সহকর্মী আছে তাদের নিয়ে ঐদিনে বাসায় বড় ধরনের আয়োজন করার। কিন্তু বছর দু ধরে সময়ের কারণে হয়ে উঠছে না। পারিবারের সঙ্গে সারদিন কাটিয়ে দেই পহেলা বৈশাখের সারাদিন।
রিয়াজ
ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখে তেমন উল্লেখ্যযোগ্য কিছু করা হত না।পরিবারের সঙ্গে সারাদিন কাটিয়ে দিতাম। তবে এ দিনের বিশেষ একটি উপলক্ষ ছিল কারণ গ্রাম অঞ্চলে এদিনে হালখাতা অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। বিশেষ করে জুয়েলারি বা স্বর্ণের দোকানে গেলে মিষ্টি মন্ডাসহ বিভিন্ন কিছু খেতে দিত। যা অন্যরকম এক অনুভূতি ছিল। এছাড়া এখনতো পহেলা বৈশাখ শহুরে রূপ পেয়ে গেছে।
অপু বিশ্বাস
ছোট বেলায় পয়েলা বৈশাখ ছিল বেশ আনন্দের ও মধুর। তখনকার সময়ে পহেলা বৈশাখ মানে কার কাছ থেকে কোন ধরনের কত বেশি উপহার পাব। এছাড়া ইলিশ মাছ কেন্দ্রীক একটা বিষয়তো থাকেই। এখন বিষয়টা সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে গেছে। ছোট বেলা মেলায় যাওয়ার একটা বিষয় থাকে। কিন্তু আমার কখনও যাওয়া হয়ে ওঠেনি। কারণ এত ভীড় এর মধ্যে যাওয়াটা একদমই অপছন্দ করতাম। তবে মেলা থেকে যে মিষ্টি জাতীয় খাবারগুলো আনা হত তা খাওয়া তখনোই মিস করতাম। নিজের যতটুকু ইচ্ছে হতো খেয়ে ফেলতাম। সর্বোপরি একটি বিষয় শহুরের যান্তিকতার আড়ালে গ্রাম্য যে পহেলা বৈশাখের একটি বিষয় থাকে তা হাড়িয়ে গেছে।
আনিসুর রহমান মিলন
ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখে বাবা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিতেন। আমরা ভাই বোনারা মিলে ধানমণ্ডি লেকে ফুল কুড়াতে যেতাম। ফুল কুড়িয়ে বাসায় যাওয়ার পরে সেগুলোকে বাসায় গিয়ে খুব সুন্দর করে সাজাতাম। এরপর পহেলা বৈশাখের সকাল বেলায় দই, মিষ্টি, চিড়া দিয়ে আমাদের পরিবারের সকলের নাস্তা করা হত। এছাড়া বাবা আমাদের পহেলা বৈশাখের দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতেন আমরা যেন বছরের প্রথম দিন কারও সঙ্গে মিথ্যা কথা না বলি। তাহলে বছরের বাকীটা সময় আমরা মিথ্যা কথা বলব। আর এখনকার পহেলা বৈশাখ বলতে অভিনয় আর পরিবার বাইরে গেলেও খুব কম। কারণ মানুষের এত ভীড় থাকে যেখানে যাতায়াত করা কিছুটা সমস্যা হয়ে যায়।
আরেফিন শুভ
ছোটবেলায় পহেলা বৈশাখ মানে ছিল নিজেদের জন্য একটি দিন। সকাল বেলা ঘুম থেকে ওঠে গোসল করে এরপর পান্তা ইলিশ খাওয়া। এরপর বন্ধুদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে যাওয়া। মফস্বল শহরে পহেলা বৈশাখের অন্যরকম আমেজ ছিল। যা শহরে এসে ছিটেফুটোও পাই না। আমাদের পয়েলা বৈশাখে যে অপার বাঙালির আনন্দ তা আমেরিকার ডিজনিল্যান্ড গিয়েও পাওয়া যাবে না। এছাড়া আরেকটি বিষয় না বললেই নয় পহেলা বৈশাখে এলাকাতে যত সুন্দর মেয়ে আছে সবাইকে একনজরের জন্যে হলেও দেখার সুযোগ হয়। কারণ সেদিন সবাই বাসা থেকে একবারের জন্য হলেও বের হত। এককথায় পহেলা বৈশাখ বলতে আমার কাছে স্বর্গীয় এক অনুভূতি। এখন ইলিশ মাছ বলতে তো শুধু তার রেপলিকা পাওয়া যায়। নিষ্ঠুর যান্ত্রিক শহরে থাকার কারণে ছোটবেলার পহেলা বৈশাখকে অনেক বেশি মিস করি।

