রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের ঐতিহ্যবাহী মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মহল নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেও জাতীয় গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত চিত্র ও সব দাপ্তরিক সত্যতা উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিগত দিনের প্রশাসনিক জটিলতা ও আইনি বিরোধ পেরিয়ে বর্তমান এডহক কমিটির গতিশীল নেতৃত্বে স্কুলটিতে এখন সুশাসন, শৃঙ্খলা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অভূতপূর্ব সংস্কার কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
অভিভাবকহীন অবস্থার অবসান: শিক্ষার্থীদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার
জাতীয় গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী টিম বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানতে পেরেছে যে, দীর্ঘকাল ধরে সঠিক অভিভাবকত্ব ও সুশাসনের অভাবে স্কুলটি এক প্রকার অভিভাবকহীন ও বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিল। কিন্তু বর্তমান এডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙে পড়েছে। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন পর একজন অত্যন্ত সৎ, দক্ষ, শিক্ষাবান্ধব ও আদর্শবান অভিভাবক বা সভাপতি পেয়েছে বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, আজ তাদের সন্তানেরা একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল অভিভাবকের সুশৃঙ্খল ছায়ায় নিরাপদ পরিবেশে পড়ালেখা করার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল। এই পরিবর্তন ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে এখন পরম আনন্দের জোয়ার বইছে।
প্রাথমিক শিক্ষা শাখার অনুমোদন ও সুশাসন
গণমাধ্যমে অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে যে, বর্তমান এডহক কমিটির ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের ফলে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শাখার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন অর্জিত হয়েছে। বর্তমান সভাপতি মোঃ আশরাফুজ্জাহান জাহান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলমের যুগোপযোগী পদক্ষেপে স্কুলে পড়াশোনার সুন্দর পরিবেশ ফিরে এসেছে এবং অভিভাবকদের বসার সুব্যবস্থাসহ সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত হওয়ায় বিদ্যালয়টি এখন সফলতার পথে এগিয়ে চলেছে।
অডিটোরিয়াম সম্প্রসারণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন
অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমান কমিটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। পূর্বে অত্যন্ত ছোট একটি অডিটোরিয়াম থাকলেও বর্তমান কমিটির প্রচেষ্টায় সেটিকে সম্প্রসারণ করে প্রায় ৬ শ’ মানুষের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিশাল ও আধুনিক অডিটোরিয়ামের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। ফলে স্কুলটির বিভিন্ন সভা, অভিভাবক সভা,বার্ষিক অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নানা সংস্কার কাজ চলমান। এছাড়াও মহিলা শিক্ষিকা ও ছাত্রীদের জন্য একটি আলাদা ও আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন নামাজের স্থানের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।
পৌরকর বকেয়া পরিশোধ ও চেয়ার ক্রয়ে স্বচ্ছতা
গণমাধ্যম অনুসন্ধানে বিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হয়েছে। ইতিপূর্বে পৌরকর ও চেয়ার ক্রয় নিয়ে কিছু অনলাইন পোর্টালে বানোয়াট,অসত্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হলেও দাপ্তরিক নথিপত্র ও ব্যাংক রসিদ যাচাই করে লেনদেনের স্বচ্ছ ও স্পষ্ট সত্যতা মিলেছে।
পৌরকর পরিশোধ:
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৫-২৬ করবর্ষ পর্যন্ত বকেয়া পৌরকরের বিশাল দাবির বিপরীতে বর্তমান পর্ষদের জোরালো উদ্যোগে এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে সঠিকভাবে ৬৬,৬২,৮০৬ (ছেষট্টি লাখ বাষটি হাজার আটশত ছয়) টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
সাশ্রয়ী মূল্যে আসবাবপত্র ক্রয়:
শিক্ষার্থীদের বসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আরএফএল প্লাস্টিকস লিমিটেড থেকে ৩০০ পিস ডেকোরেট চেয়ার (Diamond – Sandal Wood) ক্রয়ের ক্ষেত্রে সভাপতি নিজে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে (দরকষাকষি করে) বাজার দরের চেয়ে অনেক কম মূল্যে (প্রতি পিস অফার মূল্য মাত্র ৪২০ টাকা ধরে সর্বমোট ১,২৬,০০০ টাকায়) ক্রয় কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে ক্রয় নিশ্চিত করেছেন। এতে বিদ্যালয়ের তহবিলের বড় অংকের অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।
বরখাস্ত ও আইনি জটিলতার প্রকৃত সত্য (নথিপত্র ভিত্তিক)
গণমাধ্যম অনুসন্ধানে প্রাপ্ত দাপ্তরিক পাতাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সাবেক তৎকালীন সভাপতি কর্তৃক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলমের ওপর জারিকৃত সাময়িক বরখাস্তের আদেশটি ছিল সম্পূর্ণ বিধি বহির্ভূত, শৃঙ্খলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগবিহীন এবং স্মারক নং, এডহক কমিটির মিটিং ও রেজুলেশন ছাড়া তৈরি করা একতরফা একটি পত্র। এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রবিধানমালা- ২০২৪ ও শিক্ষা বোর্ডের বিধি লঙ্ঘন করায় পরবর্তীতে বর্তমান এডহক কমিটির সভায় ওই বরখাস্তের আদেশ রেজুলেশন করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার ও বাতিল করা হয়।
এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের লিভ টু আপিল (নম্বর-২৮৩১/২০২৫) মামলায় আদালত স্ট্যাটাসকো আদেশ মারফত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম সম্পূর্ণ সঠিক ও আইনগতভাবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। অথচ এসব আইনি ও দাপ্তরিক সত্যতা গোপন করে একটি কুচক্রী মহল ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠান, সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম জানান, শিক্ষা বোর্ডের বিধি ও প্রবিধান শতভাগ অনুসরণ করেই বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এডহক কমিটির সভাপতি মোঃ আশরাফুজ্জাহান জাহান বলেন, “আমরা বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের জট ও আর্থিক সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করেছি। শিক্ষার মান উন্নয়ন, স্কুলের নিয়ম শৃঙ্খলা, প্রাথমিক শিক্ষার অনুমোদন, অডিটোরিয়াম ও বাথরুম সংস্কার, বকেয়া পৌরকর পরিশোধ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে আমরা বদ্ধপরিকর। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আস্থা এবং ভালোবাসা আমাদের কাজের মূল অনুপ্রেরণা। সকল ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে এই প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই বর্তমান এডহক কমিটি, সকল শিক্ষক শিক্ষিকা ও বিদ্যালয়ের সকল কর্মচারিবৃন্দের মূল লক্ষ্য।”

