রাজনৈতিক সুপারিশে ঢাকা কলেজের হলগুলোতে ৯০ শতাংশ সিট বরাদ্দের অভিযোগ তুলেছেন একদল শিক্ষার্থী। এছাড়া সচ্ছল, নন-কলেজিয়েট এবং ফেল করা শিক্ষার্থীদের সিট বরাদ্দের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব সিট বাতিল করে বিভাগ থেকে সুপারিশ করা মেধাবী ও অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য সিট বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়া আবাসন সংকট সামাধানে নতুন হল নির্মাণেরও দাবি জানান তারা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঢাকা কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সালমান শরীফ, শাহীন আলম ও তৃতীয় বর্ষের মারুফ মিয়া।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সালমান শরীফ বলেন, ‘বিভাগের মাধ্যমে হলে আবেদনের পর ঢাকা কলেজ প্রশাসন কর্তৃক সিট বরাদ্দের লিস্ট দেওয়া হয়েছে। বিভাগ থেকে যেসব শিক্ষার্থীর জন্য সুপারিশ করা হয়েছে তাদের সিট দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন মন্ত্রীর সুপারিশ কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পরিচয়ে বাকি ১০ শতাংশ সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী কলেজের পরীক্ষায় বিভাগে প্রথম হয়েছে। কিন্তু তাকে সিট না দিয়ে বিভাগের লাস্ট কিংবা ফেল করেছে তাকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আমরা আরও লক্ষ্য করেছি, গত দুই মাস ধরে ঢাকা কলেজের রিডিং রুমে বসবাস করা এক শিক্ষার্থীকেও মানবিক বিবেচনায় হলের সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কলেজ প্রশাসন বিভিন্ন নন-কলেজিয়েট, ডিস-কলেজিয়েট হয়েছে তাদের সিট বরাদ্দ দিয়েছে। যারা মেধাবী, যারা যোগ্য হলের সিটের জন্য তারাই যেন হলের সিট পায়। কিন্তু আমরা দেখলাম ক্ষমতার প্রদর্শন করে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন নিজেদের টপ ফাইভের নেতাদের রেফারেন্সে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
আশঙ্কা প্রকাশ করে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থী সালমান বলেন, ‘স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ আমলে ফ্যাসিট হাসিনার সময়ে যেভাবে হলগুলো দখল করা হয়েছিল, আবারও একইভাবে আমাদের হলগুলোতে আগের গেস্টরুম, গণরুম কালচার ফিরে আশার আশঙ্কা প্রকাশ করছি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এভাবে সিট বরাদ্দ দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। একই সঙ্গে ঢাকা কলেজ থেকে যদি এই সিট বরাদ্দ শুরু হয় তাহলে পরবর্তীতে সিট বরাদ্দের দলীয়করণ পুরো বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়বে। আমরা আবারও আওয়ামী লীগে আমলের ছাত্রলীগের কালচার ফিরে আসার আশঙ্কা করছি।’
সিট বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানিয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শাহিন আলম বলেন, ‘এই সিট বরাদ্দ বাতিল করে নতুন করে আবারও ভাইভা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে আইডেন্টিফাই করে হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন যেন ভেঙে না যায় সেই জায়গাকে লক্ষ্য রেখে সিট বরাদ্দ দিতে হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার জবাব কলেজ প্রশাসনকে অবশ্যই দিতে হবে। চিহিত ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত তারাও হলে সিট পেয়েছে। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে না থেকে এ ধরনের কাজ করেছে তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে দুই দফা দাবি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো:
১. অনতিবিলম্বে অনিয়মের মাধ্যমে বরাদ্দ সিট বাতিল ঘোষণা করে নায্যতা এবং মেধার ভিত্তিতে নতুন করে সিট বরাদ্দ দিতে হবে।
২. অতিদ্রুত ঢাকা কলেজের আবাসন সংকট দূর করার জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট দুটি ভবন নির্মাণের মাধ্যমে হল সংকটের সমস্যা সমাধান করতে হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ বলেন, সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিভাগগুলোর সুপারিশকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় সুপারিশের বাইরে কাউকে সিট দেওয়া হয়নি। সিটের জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল অনেক। এর মধ্যে এবার মাত্র ১১০ জনকে সিট দেওয়া হয়েছে। ফলে কেউ সিট না পাওয়ায় অভিযোগ বা অসন্তোষ থাকতে পারে। তবে বরাদ্দ দেওয়া ১১০টি সিটের ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ নেই।
বিভাগ থেকে একাধিকবার সংশোধিত তালিকা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো বিভাগ প্রয়োজনে প্রথম তালিকার পর সংশোধিত বা পুনর্বিবেচিত তালিকাও দিতে পারে। প্রশাসনের কাছে বিভাগ থেকে সর্বশেষ যে তালিকা দেওয়া হয়, সেটিই বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেখানে দলীয়ভাবে কাউকে সিট দেওয়ার সুযোগ নেই। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতেই সিট দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, আসন সংখ্যা খুবই সীমিত। সে তুলনায় আবেদন অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবেই সবাইকে সিট দেওয়া সম্ভব না। তবে তালিকা প্রকাশ করতে গিয়ে কোনো ভুল হলে সেটি পুনর্বিবেচনা করা হবে।

