ঢাকাThursday , 9 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি জালিয়াতি, প্রশাসন নির্বিকার

Link Copied!

juনিজস্ব প্রতিবেদক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি নিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের মাধ্যমে এক অমুক্তিযোদ্ধার সন্তান ভর্তি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্মতত্ত্ব বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা শাখার ঊর্ধ্বতন সহকারী বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম (শোভন) ও আলিফা আহমেদ ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগে এক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করান। ভর্তির বিনিময়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৫ শত টাকা দেয়া হয় বলে স্বীকার করেছে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী। তবে তারা দাবি করেন সব টাকা বিল্লাল হোসেনকে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদে ভর্তিতে জালিয়াতির মূলহোতা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শাখার ঊর্ধ্বতন সহকারী বিল্লাল হোসেন। ভর্তিতে যখন জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে, তখন পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় শিক্ষা শাখা গত ৯ মার্চ ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির হওয়া সব শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযোদ্ধার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুনরায় পিতার/মাতার মুক্তিযোদ্ধা সনদ, মুক্তিবার্তা ও গেজেটের কপি চায়। ২৩ মার্চ জমাদানের শেষ তারিখ থাকলেও তা আবার ৭ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু সনদ না থাকায় প্রত্মতত্ত্ব বিভাগে ভুয়া সনদে ভর্তি হওয়া ওই শিক্ষার্থী কোনো তথ্যই জমা দিতে পারেনি। ভর্তির সঙ্গে জড়িত নৃবিজ্ঞান বিভাগের মো. রিয়াজুল ইসলাম (শোভন) ও আলিফা আহমেদের কাছে সনদ চাইলেও তারা সনদ দেয়নি। সনদ না দেয়ায় শেষ দিনে ঘটনা জানতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠিরা রিয়াজুল ও আলিফের কাছে যায়। কিন্তু তারা তাদের কোনো মূল সনদ দিতে পারেনি। এদিকে সাংবাদিকদের সামনে ভুয়া সনদের মাধ্যমে ভর্তির বিষয়টি অভিযুক্ত শিক্ষার্থী স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে মো. রিয়াজুল বলেন, ‘ভর্তির জন্য ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়েছি। কিন্তু সব টাকা ভর্তি শাখার বিল্লাল হোসেনকে দিয়ে দিয়েছি। তার কাছে সনদ চেয়েছি কিন্তু তিনি দেননি।’
রিয়াজুলের সহপাঠি ও ঘনিষ্ট বন্ধু আলিফা আহমেদ বলেন, ‘বিল্লাল হোসেন আমার দুর-সম্পর্কের নানা হন। তিনিই ভর্তির সবকিছু করেছেন। ভর্তির জন্য যে টাকা নেয়া হয়েছে তা নানাকে দিয়ে দেয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য রিয়াজুল ও প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের ওই শিক্ষার্থী একই স্কুল সহপাঠি ও বন্ধু। আলিফার মাধ্যমে তার নানা বিল্লাল হোসেন ভর্তিটি সম্পন্ন করেন।
রিয়াজুল আরো বলেন, ‘বিল্লালের পরামর্শে আমার ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে টাকা নেয়া হয়েছে। তারা একাউন্টে টাকা দিলে প্রশাসন বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখতে পারে তাই আমার একাউন্টে টাকা নেয়া হয়।’
অনুসন্ধানে জানা যায়, রিয়াজুল চুক্তি অনুযায়ী ভর্তির পূর্বেই ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেয়। এর পর মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম আশার পর ১ লাখ, ভর্তির দিন ১ লাখ এবং ভর্তির পর ভুয়া সনদ বাননোর খরচ হিসেবে আরও ১০ হাজার ৫০০ টাকা নেয়া হয়। এর মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে এবং বাকি টাকা নগদ নেয় রিয়াজুল। রিয়াজুলের ডাচ বাংলা ব্যাংক একাউন্টে (একাউন্ট নং ১৪৮-১০৫-১০০৯৮০) বরিশাল শাখা থেকে গত বছরের ১ জুন ১ লাখ টাকা এবং ঢাকার সাতমসজিদ রোড শাখা থেকে একই বছরের ১৫ অক্টোবর ১০ হাজার ৫০০ টাকা পাঠানো হয়।
প্রত্মতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হওয়া ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি রিয়াজুল ও আলিফার মাধ্যমে ভর্তি হয়েছি। ভর্তির দিন শুধু ওই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘তাদের দেয়া যে মুক্তিযোদ্ধা সনদের মাধ্যমে ভর্তি হয়েছি, ভর্তির পর তারা সেটি নিয়ে নিয়েছে আর দিচ্ছে না।’
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনকে শিক্ষা শাখা থেকে এস্টেট শাখায় বদলি করেই দায় সেরেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদালয় প্রশাসন। অন্যদিকে শুধু একটি মাত্র শিক্ষাবর্ষে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছে তথ্য চাওয়ার মাধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা-১) মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বর্ষেও দেখা হবে।’
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের কথা আমরা শুনেছি, এটি তদন্ত করে খুব দ্রুতই একটি কমিটি গঠন করা হবে।’