ঢাকাMonday , 13 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘যুদ্ধাপরাধ’ বলছে ইরান
খুজেস্তান-বুশেহর পানি পাম্পে মার্কিন হামলায় নিহত ১, আহত ৪

Link Copied!

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহর প্রদেশে দুটি পানি পাম্পিং স্টেশনে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলায় খার্গ দ্বীপে সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্মকর্তারা। এ হামলাকে যুদ্ধাপরাধের সুস্পষ্ট উদাহরণ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

সোমবার (১৩ জুলাই) খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহরে একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন বলে প্রাদেশিক এক কর্মকর্তা জানান।

খুজেস্তান পানি ও বিদ্যুৎ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্বাস সাদরিয়ানফার বলেন, মাহশাহর ও হেন্দিজান শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত হেন্দিজানের আরএমডি (RMD) ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনটিতে সোমবার ভোরে হামলা চালায় মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুরা।

তিনি জানান, জোহরেহ ও জাররাহি সেচ নেটওয়ার্ক পরিচালনা কোম্পানির কর্মী শাকের মোহসেনি এ হামলায় নিহত হন। আরও একজন কর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ স্থাপনাটি অঞ্চলের কৃষি বর্জ্যপানি নিষ্কাশন ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা বজায় রাখতে এর কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানের পানি শিল্পের মুখপাত্র ইসা বোজোরগজাদেহ বলেন, হেন্দিজানের আরএমডি ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনে ভোরের হামলা ছিল মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য এবং জীবিকার ওপর আঘাত।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সব নথি, আইন এবং প্রাচ্য ও ইরানি সংস্কৃতি-সভ্যতায় পানির একটি পবিত্র স্থান রয়েছে। পানির ওপর আগ্রাসন মানে মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর আগ্রাসন।

তিনি আরও বলেন, পানি খাতের এই কর্মীর শাহাদাত প্রমাণ করে যে হামলাটি শুধু বেসামরিক অবকাঠামো নয়, জনগণের সেবায় নিয়োজিত মানুষদেরও লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এই হামলাকে চিন্তা ও কর্মকাণ্ডে অসহায়ত্ব এবং হতাশার নিদর্শন উল্লেখ করে বোজোরগজাদেহ বলেন, যখন শত্রু পানি স্থাপনা লক্ষ্য করে, তখন তারা আসলে নিজেদের অক্ষমতাই প্রকাশ করে। এটি কোনো সম্মানজনক বা সামরিক সাফল্য নয় বরং দুষ্ট মানসিকতা ও কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি জানান, হামলার উদ্দেশ্য ছিল স্থাপনাটির কার্যক্রম ব্যাহত করা। তবে, ভোর থেকেই পানি খাতের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, পানি স্থাপনা এবং পানি রক্ষাকারীদের লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধের স্পষ্ট উদাহরণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার ভোরে খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ, ওমিদিয়েহ, মাহশাহর, বেহবাহান, দেজফুল, আন্দিমেশক, আবাদান এবং শাদেগান-সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, আহভাজ শহরের উপকণ্ঠে দুটি স্থানে হামলা হয়েছে। তবে আহভাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার খবর তারা নাকচ করেছে।

এদিকে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, পানি পাম্পে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে বাহরাইনে মার্কিন সেনাবাহিনীর সামরিক অবকাঠামো, ওমানে একটি দীর্ঘ-পাল্লার এফপিএস (FPS) আকাশ নজরদারি রাডার এবং একটি সামুদ্রিক নজরদারি রাডার ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যম আরও জানায়, গত মাসে হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির পানি সরবরাহ স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। ওই হামলায় কুহেস্তাক শহর এবং বেমানি জেলার ১০টি গ্রামের পানি বিতরণ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করে হরমুজ প্রণালিতে অবৈধ উপায়ে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা ইরানের নৌবাহিনী প্রতিহত করার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে ইরান কর্তৃপক্ষ ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতার জেরে হরমুজ প্রণালি সব ধরনের নৌযান চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

সূত্র: প্রেস টিভি