ঢাকাMonday , 13 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওয়াশিংটন পোস্ট রিপোর্ট
কুয়েতে ইরানের ড্রোন হামলা: প্রাণে বাঁচা মার্কিন সেনাদের অভিযোগ কী?

Link Copied!

সমঝোতা স্বাক্ষর ভেস্তে দিয়ে ফের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। স্মারকে উল্লিখিত শর্ত পূরণ না করায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইসলামি গার্ড কোর আইআরজিসি। গত বৃহস্পতিবার ইরানে হামলা শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এর জবাবে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক হামলা চালায় আইআরজিসি।

এর ধারাবাহিকতায় কুয়েতে শুয়াইখ বন্দরে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন সেনাসদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতের শুয়াইখ বন্দর ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে বলে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তা উপেক্ষা করেন। সেনা সদস্যরা অভিযোগ করেন, শুয়াইখ (Shuwaikh) বন্দরের নিরাপত্তা হুমকিকে তাদের ঊর্ধ্বতন কমান্ডাররা গুরুত্ব দেননি।

একই সঙ্গে স্থাপনাটির নিরাপত্তা পর্যাপ্ত নেই জানা সত্ত্বেও সেখানে নিয়মিত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিরাপত্তার ঘাটতি বুঝতে পেরে কয়েকজন সেনা নিজেরাই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নিলেও পর্যাপ্ত সরাঞ্জামের অভাবে সেই প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে যায়।

তারা আরও অভিযোগ করেন, একাধিকবার বিমান হামলার সতর্কতা জারি থাকা অবস্থায়ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হয়ে কাজে ফিরে যেতে চাপ দিয়েছিলেন।

এ ঘটনার বিষয়ে চলমান অভ্যন্তরীণ তদন্তে কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। ওই সূত্রের দাবি, বন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, স্থাপনাটির নিরাপত্তা যথেষ্ট ছিল।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর গত ১ মার্চ কুয়েতে একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। পরে পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ জানান, কৌশলগত অপারেশন সেন্টারে হামলায় ওই সেনারা নিহত হয়েছেন। তিনি প্রথমে এটিকে একটি শক্তিশালী সুরক্ষিত কমান্ড পোস্ট হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ইরান অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করেছিল।

তবে, সিবিএস নিউজ সূত্রের বরাতে জানায়, ওই কমান্ড পোস্টটি ছিল একটি অস্থায়ী স্থাপনা, যার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল সীমিত।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিবাদে ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর কয়েক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

সর্বশেষ, ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে চলতি সপ্তাহে একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে সমঝোতায় পৌছায় দুই পক্ষ। অ্যাক্সিওস এর সংবাদের তথ্য মতে, ১৪ দফার ভিত্তিতে দুই পক্ষ ৬০ দিনের জন্য আলোচনায় সম্মত হয়েছে এবং ইরানের ওপর হামলা তথা যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।