চট্টগ্রাম নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়েছে। এসময় কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তোলা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
সোমবার (১৮ মে) দুপুর ১টার দিকে টাইগারপাস মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নগরের জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত মূল সড়ক ও আশপাশ এলাকায় সভা-সমাবেশ ও মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার পর টাইগারপাস পুলিশ বক্স এলাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি আঁকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসময় পুলিশ মাইকিং করে তাদের সরে যেতে বলে। জবাবে শিক্ষার্থীরা জানান, তারা বড় জমায়েত করবেন না, তিনজন করে গিয়ে গ্রাফিতি আঁকবেন।
কয়েকজন শিক্ষার্থী ১টার দিকে রংতুলি নিয়ে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এসময় বালতি থেকে রং ছিটকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীর গায়ে পড়ে। পরে পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে ভ্যানে তোলে। এ ঘটনায় অন্য শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পুলিশের নির্দেশনা মেনে তারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে গ্রাফিতি আঁকার চেষ্টা করেছিলেন। এরপরও পুলিশ বাধা দিয়ে অন্যায়ভাবে কয়েকজনকে আটক করে।
তবে আড়াইটার দিকে আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেয় পুলিশ। এরপর শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যদিও টাইগারপাস এলাকায় এখনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘টাইগারপাস এলাকায় মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশের ৩০ ধারা জারি আছে। তা অমান্য করে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে ৫০ থেকে ৬০ জন জড়ো হয়েছিল। তাদের সরে যেতে বললেও তারা সরেনি। সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশের গায়ে রং মারে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে যে, আজ তাদের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। যারা রং মেরেছিল, তাদের কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

