তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : এই শতকের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত চন্দ্রগ্রহণ গতকাল শনিবার বিশ্ববাসী উপভোগ করেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা গেছে। তবে ঢাকায় আকাশ মেঘলা থাকায় চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, গতকালের চন্দ্রগ্রহণটি প্রায় পাঁচ মিনিটে সম্পন্ন হয়েছে। এটি শতাব্দীর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত চন্দ্রগ্রহণ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞান সাময়িকী স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ জানায়, চন্দ্রগ্রহণের সময় কোথাও কোথাও চাঁদ তামাটে লাল রং ধারণ করে। ঘটনাটি ‘ব্লাড মুন’ নামে পরিচিত।
এএফপি ও সিএনএন জানায়, জাপানের উত্তরাঞ্চল ও অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি অংশ এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে গত রাতে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ দেখা যায়। আর আংশিক দেখা যায় দক্ষিণ আমেরিকা, ভারত, চীন ও রাশিয়ার কয়েকটি অঞ্চল থেকে।
বাংলাদেশের বিজ্ঞান সংগঠন অনুসন্ধিৎসু চক্রের সদস্য জয়নাল জানায়, বাংলাদেশ সময় গতকাল সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে চাঁদ দিগন্তের ওপরে ওঠার পর গ্রহণ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে আংশিক গ্রহণ ও রাত ৮টা ৫৯ মিনিটে চন্দ্রগ্রহণের উপচ্ছায়া পর্যায় শেষ হয়।
ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি বিজ্ঞান সংগঠন চন্দ্রগ্রহণ দেখার আয়োজন করলেও আকাশ মেঘলা থাকার কারণে চন্দ্রগ্রহণ দেখা সম্ভব হয়নি।
যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে পৃথিবী একই সরলরেখায় চলে আসে তখন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের উপর পড়ে। ফলে পৃথিবী থেকে মনে হয় চাঁদ ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে। এটাকেই বলা হয় চন্দ্রগ্রহণ।
গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে অনেকটা তামাটে বা লালচে চাকতির মতো মনে হবে। এর কারণ হল সূর্যের কিছু আলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের মধ্যে দিয়ে বিচ্ছুরিত হয়ে চাঁদের উপর পড়ে। অন্যান্য রং বিচ্ছুরিত হলেও লাল রং তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল দিয়ে প্রতিসরিত হয়ে চাঁদের ওপর পড়ে। এই কারণে গ্রহণের চাঁদকে লাল দেখায়।

