আশুলিয়া-র দত্তপাড়া এলাকায় আব্দুল মান্নান নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যার দিকে বিরুলিয়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসার বাথরুম থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল মান্নান কয়েকদিন ধরে ওই এলাকার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দত্তপাড়ার লোকমান হোসেনের মালিকানাধীন দোতলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট দিনভর বন্ধ ছিল। সন্ধ্যার দিকে বাড়ির মালিক ফ্ল্যাটে গিয়ে সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বাথরুমে আব্দুল মান্নানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে সাভার মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা আব্দুল মান্নানকে পিটিয়ে হত্যা করার পর মরদেহ বাথরুমে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয়রা জানান, এমন নৃশংস ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছেন।
এ বিষয়ে আরমান আলী বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

