বিনোদন ডেস্ক : আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তার পরপরই শুরু হবে ২০১৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে ২০১৩ সালে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখায় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বিজয়ীদের মধ্যে নিজ হাতে পুরস্কার বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে শুরু হবে এই অনুষ্ঠান। তাই পুরো চলচ্চিত্রাঙ্গন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কখন প্রধানমন্ত্রী আসবেন।
দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পে গৌরবোজ্জ্বল ও অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার মোট ২৫টি শাখায় ২৯ জন শিল্পী ও কলাকুশলীকে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।তথ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদে তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এমপি। স্বাগত বক্তব্য দেবেন তথ্য সচিব মরতুজা আহমদে। এর আগে পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে অনুভূতি ব্যক্ত করবেন ২০১৩ সালে আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়ে খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেত্রী সারাহ বেগম কবরী।
পুরস্কার প্রদান শেষে অভিনেতা জাহিদ হাসান ও মেহের আফরোজ শাওনের উপস্থাপনায় রয়েছে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে প্রথমেই কবরী অভিনীত ‘সুতরাং’ ছবির একটি গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করবেন আমিন খান ও নিপুণ। এছাড়া কবরীর অভিনীত আরেকটি ছবির গান ‘আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে’ সঙ্গে নাচবেন চিত্রনায়ক ওমর সানী ও অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া।
এছাড়া ‘সুজন সখী’ ছবির ‘সব সখীরে পার করিতে নেবো আনা আনা’ গানের সঙ্গে নিরব-মেহজাবিন ও ‘রংবাজ’ ছবিতে সাবিনা ইয়াসমিন ও মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর গাওয়া ‘হৈ হৈ রঙিলা রঙিলা রে’ গানের তালে চিত্রনায়ক জায়েদ খান, শিরিন শিলা ও পরীমণি।
অন্যদিকে অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন কণ্ঠশিল্পী মো. খুরশীদ আলম, মমতাজ, শাকিলা জাফর, আঁখি আলমগীর, দিনাত জাহান মুন্নি, কোনাল ও তওসিফ।
এদিকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী ব্যক্তি, আমন্ত্রিত অতিথি এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের লোকজন দুপুরের পরপরই আগারগাঁওস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আসতে শুরু করবেন। তাছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও কলাকুশলীরা সকাল থেকেই অনুশীলন করছেন।
এক নজরে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৩’
শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘মৃত্তিকা মায়া’ (প্রযোজক ফরিদুর রেজা সাগর ও গাজী রাকায়েত),
শ্রেষ্ঠ পরিচালক গাজী রাকায়েত (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার গাজী রাকায়েত (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার গাজী রাকায়েত (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ সংলাপ গাজী রাকায়েত (মৃত্তিকা মায়া),
প্রধান চরিত্রের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা তিতাস জিয়া (মৃত্তিকা মায়া),
প্রধান চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী (যৌথভাবে) মৌসুমী (দেবদাস) ও শর্মিমালা (মৃত্তিকা মায়া),
পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ (মৃত্তিকা মায়া),
পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষ (মৃত্তিকা মায়া),
খল চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা মামুনুর রশিদ (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ চিত্র গ্রাহক সাইফুল ইসলাম বাদল (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ শব্দ গ্রাহক কাজী সেলিম (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক (যৌথভাবে) শওকত আলী ইমন (পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী) ও একে আজাদ (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ গায়ক চন্দন সিনহা (পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী),
শ্রেষ্ঠ গায়িকা (যৌথভাবে) সাবিনা ইয়াসমিন ও রুনা লায়লা (দেবদাস),
শ্রেষ্ঠ গীতিকার কবির বকুল (পূর্র্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী),
শ্রেষ্ঠ সুরকার কৌশিক হোসেন তাপস (পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেমকাহিনী),
শ্রেষ্ঠ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম রাসেল (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ শিল্পী নির্দেশক উত্তম গুহ (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ পোশাক ও অঙ্গসজ্জা ওয়াহিদা মল্লিক জলি (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ মেকাপম্যান আলী বাবুল (মৃত্তিকা মায়া),
শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পী স্বচ্ছ (একই বৃত্তে),
শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার সৈয়দা অহিদা সাবরিনা (অন্তর্ধান) এবং
শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্যচিত্র শুনতে কি পাও (সারা আফরিন)।

