স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগের মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ২০১২ সালে যোগদান করেন মহাবুল ইসলাম। এরপর থেকে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি একই কর্মস্থলে ১৪ বছর যাবৎ দাপটের সাথে দুর্নীতি আর অনিয়মের মাধ্যমে দু’হাত ভরে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে একই অফিসে কাজ করার সুবাধে পুরো উপজেলা এলজিইডি অফিসের হর্তাকর্তা হিসেবে নিজেকে জাহির করতে সক্ষম হয়েছেন মহাবুল ইসলাম। ১৪ বছরে একাধিকবার বদলি হলেও তিনি উপর মহলকে ম্যানেজ করে রয়ে গেছেন এই উপজেলা এলজিইডি অফিসে। এ কারণে তিনি দম্ভোক্তির সুরে বলেন, আমি যদি স্বেচ্ছায় এই অফিস থেকে অন্যত্রে না যায় তাহলে আমাকে কেউ এখান থেকে বদলি করতে পারবে না। এই ১৪ বছরের তিনি বেশ কয়েকজন উপজেলা প্রকৌশলীকে পেয়েছেন তাদের সবাইকে তিনি নিজের মতো করে ব্যবহার করেছেন। প্রায় সকল প্রকৌশলীকে নিজের মতো করে বানিয়ে ঠিকাদারদের নিকট থেকে উপজেলা প্রকৌশলীর নাম ব্যবহার করে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মহাবুল ইসলামের এত ক্ষমতা যে, রাস্তার কাজের মান নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা সংবাদ প্রকাশ করায় ঐ সাংবাদিক রাস্তার মধ্যে অপমান এবং অপদস্ত করতে দ্বিধাবোধ করেননি তিনি। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে প্রায় ৮-৯ মাস আগে। সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ঠিকাদারদের জিম্মি করে টাকা আাদয়, একাধিকবার বদলির আদেশর পর কোন এক অজানা খুঁটির জোরে তিনি এখনও উক্ত অফিসে দাপটের সঙ্গে চাকুরি করে যাচ্ছেন। ১৪ বছরে একই কর্মস্থলে থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তার নিজ এলাকা কুষ্টিয়া, রাজধানী ঢাকায়, সাভার এবং সিংগাইর উপজেলার ধল্লা এলাকায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্রয় করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় বিভিন্ন ভবন নির্মাণ প্লানের কাজগুলো প্রকৌশলী মহাবুল ইসলাম তদারকি করে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ভবনের নির্মাণ প্লান অনুমোদনে মহাবুলকে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা। প্ল্যানিং পাশ করানোর কাজে সর্বনিম্ন অর্ধ লক্ষ থেকে লক্ষাধিক টাকা না দিলে ফাইল নড়ে না। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে বসতবাড়ির প্ল্যান অনুমোদন বিষয়ক একটি কমিটি রয়েছে। যে কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব থাকেন উপজেলা চেয়ারম্যান আর সদস্য সচিব হিসেবে থাকার কথা উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলীর। কিন্তু সিংগাইর উপজেলায় হয়েছে এর উল্টো। উপ-সহকারী প্রকৌশলী মহাবুল ইসলাম ক্ষমতার দাপট ও উপর মহলকে ম্যানেজ করে তিনি সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আর এর মাধ্যমে কামিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। উপজেলার অন্যান্য দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে শোনা যায়, কি এমন মধু আছে সিংগাইর উপজেলা এলজিইডি অফিসে! প্রকৌশলী মহাবুল ইসলাম একাধিকবার বদলি হওয়ার পরও এখান থেকে যেতে চাচ্ছেন না কেন?
একই কর্মস্থলে টানা ১৪ বছর, বিল্ডিংয়ের প্লানের অনুমোদনে আর্থিক অনিয়ম, উপজেলা প্রকৌশলীর নামে ঠিকাদারদের নিকট আর্থিক সুবিধা নেয়া, একাধিকবার বদলির আদেশ হলেও কেন এই উপজেলা থেকে অন্যত্রে যাচ্ছেন না এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মহাবুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছেন তা সঠিক না ।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম লুৎফর রহমানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

