ঢাকাWednesday , 22 April 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঘুমিয়ে আছে নিবন্ধন অধিদপ্তর

Link Copied!

নানা সঙ্কটে ঘুরপাক খাচ্ছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা নিবন্ধন অধিদপ্তর। সঙ্কট আছে কিন্তু সমাধান নেই। জোর যার মুল্লুক তার। এখানে অনেক ক্ষেত্রে অনিয়মই নিয়ম। দেখার যেন কেউ নেই। এই অবস্থা দীর্ঘ দিনের। ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যূত্থানের পর সেবা প্রত্যাশীরা মনে করেছিলেন সমস্যা যাই থাকুক না কেন সমাধানের একটি ব্যবস্থা তো হবেই। কিন্তু না। দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব কেউই নিতে চান না। শুধু সময় পার করেই মাস শেষে বেতন উত্তোলন। অথচ তারা রাষ্ট্রীয় সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। আলীশান অফিস, দামী গাড়ী, গাড়ীর তেলসহ সকল সুবিধাই তারা পাচ্ছেন। অপরাধীর বিরুদ্ধে বিচার দিলে কেউ আমলেই নেন না। যে কারণে অপরাধীরা এখন আরও বেপরোয়া। সব দায় যেন আইন মন্ত্রণালয়ের। প্রশ্ন নিবন্ধন অধিদপ্তরের কাজ কি? মহাপরিদর্শক নিবন্ধন কি করেন। সারাদেশে ৫ শতাধিক সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয় রয়েছে। রয়েছেন ৬১ জন জেলা রেজিস্ট্রারও। তাদের দেখভাল করার দায়িত্ব নিবন্ধন অধিদপ্তরের। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের কোন অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ নিয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরে গেলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় এটা নাকি তাদের কাজ নয়। সব কাজ করবে আইন মন্ত্রণালয়। যে কারণে সব দায় যেন আইন মন্ত্রণালয়েরই। বলা যায়, সে কারণে নিবনন্ধন অধিদপ্তর যেন ঠুটো জগন্নাথ। জনমনে প্রশ্ন, নিবন্ধন অধিদপ্তরের কাজ কি তাহলে? নিবন্ধন অধিদপ্তরের গাড়ী চালক মনিরুজ্জামানের ছোট ভাই অফিস সহায়ক আপেল মাহমুদের দাপুটে আচরণে জিম্মী হয়ে পড়েছে ঢাকা জেলার সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সূত্র জানায়, সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের আশ্রয়ে প্রশ্রয়েই আপেল মাহমুদের সিন্ডিকেটের কাছে সেবা প্রত্যাশীরা এখন জিম্মী। ব্যাপক তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মচারি অফিস সহায়ক আপেল মাহমুদ ঐ অফিসের হর্তাকর্তা। অফিস সহায়ক আপেল মাহমুদের কথায় সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বর্তমানে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে লাখ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেন হচ্ছে। আপেল মাহমুদের সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন নকলনবীশ মিজানুর রহমান এবং মহসিন। এই সিন্ডিকেটের রয়েছে বেশকিছু সাঙ্গপাঙ্গ। তাদের পরোক্ষ ইন্ধনে বেপরোয়া শক্তি সঞ্চয় করে শান্তিপ্রিয় কর্মচারীদের কোনঠাসা করে রাখে আপেল মাহমুদের সিন্ডিকেট। সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের নির্দেশে সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং অফিসের ঘুষ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ভুক্তভোগীরা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের ক্যাশিয়ারই উক্ত আপেল মাহমুদ। সূত্র জানায়, আপেল মাহমুদের শক্তির উৎস হচ্ছে নিবন্ধন অধিদপ্তর। অফিস সহায়ক আপেল মাহমুদ যে অফিসে কর্মরত ছিলেন সেখানেই তিনি রাজত্ব করেছেন। এক পর্যায়ে সেবা প্রত্যাশিরা ক্ষুব্ধ হয়ে আপেল মাহমুদকে উত্তম মধ্যমও দিয়েছেন। গাড়ী চালক মনিরুজ্জামানের বদৌলতে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সাবেক আইজিআর আব্দুল মান্নান সকল নিয়ম কানুন উপেক্ষা করে উক্ত আপেল মাহমুদকে অফিস সহায়ক হিসেবে চাকুরী দিয়েছেন। সেই থেকেই আপেল মাহমুদ দাপুট। অন্যদিকে সাভারে সাব রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের প্রতিদিন মোটা অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হওয়ার পিছনের গল্প একটু ভিন্ন। তার বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, তিনি একজন মাদকসেবী। সাব রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন মরণ নেশা ইয়াবায় আসক্ত। যে কারণে তার আচরণও বেশ রূঢ় থাকে সব সময়। তিনি স্বাভাবিক আচরণে অভ্যস্ত নন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে প্রতিদিন গণমাধ্যমে সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হলেও কর্তৃপক্ষ এখনও কোন কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অপরদিকে, অভিযুক্ত অফিস সহায়ক আপেল মাহমুদও সদুত্তর দিতে পারেননি। নিবন্ধন অধিদপ্তরের গাড়ী চালক মনিরুজ্জামানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছিলেন নিশ্চুপ। জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা।