নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবিতে এই অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। তবে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তার মাইক বন্ধ করে দেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর এবং মেঘনা নদীর তীরবর্তী ও বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এ উপকূলীয় অঞ্চল ভৌগোলিক অবস্থান, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি বহন করে। ১৯৯৪ সাল থেকে প্রায় ৩১ বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ নোয়াখালীকে বিভাগ করার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
তিনি বলেন, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ১৭৭২ সালে ব্রিটিশ সরকার যখন ১৮টি জেলা ঘোষণা করে, তখন নোয়াখালী অন্যতম জেলা ছিল। ব্রিটিশ শাসনামলে এর কৌশলগত গুরুত্বের কারণে এখানে বড় আকারের বিমানঘাঁটিও নির্মাণ করা হয়েছিল।
তিনি দাবি করেন, নোয়াখালী অঞ্চলের ভোলা নদীবন্দর একসময় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ নদী বন্দর ছিল। এ অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে— যেমন খেলাফত আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং সর্বশেষ ২৪ এর আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
দুঃখজন হলেও সত্য নানা কারণে প্রশাসনিকভাবে অবহেলার শিকার হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের মধ্যে রয়েছে। অথচ এ অঞ্চলেই বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, ভাষাশহীদ আবদুস সালাম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো কৃতী ব্যক্তিদের জন্ম হয়েছে। এরপরে নোয়াখালী জেলাকে বিভাগ করার দাবি তুলতেই মাইক বন্ধ করে দেন স্পিকার।

