বন অধিদপ্তর ঘিরে অনলাইন অপপ্রচার, উদ্বেগ বাড়ছে কর্মকর্তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বন অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সংস্থাটির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একাধিক ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে বন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বানোয়াট ও যাচাইবিহীন অভিযোগ প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব পোস্টে দুর্নীতি, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং প্রশাসনিক অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ বা সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।
ভুয়া পরিচয়, অজানা উৎস
যাচাই করে দেখা গেছে এসব অ্যাকাউন্টের অধিকাংশেরই কোনো স্পষ্ট পরিচয় নেই। নেই নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের উপায়ও। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কিছু ক্ষেত্রে এসব আইডি থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে অর্থ দাবির ঘটনাও ঘটেছে।
শীর্ষ পর্যায়ে প্রভাব
অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বন অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম উঠে আসছে বারবার। বিশেষ করে প্রধান বন সংরক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিচয় জুড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন।
কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া
বন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, “কিছু বিচ্ছিন্ন অভিযোগ থাকতে পারে, কিন্তু পুরো বিভাগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।” তাদের মতে, এই ধরনের অপপ্রচার শুধু ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুন্ন করছে না, বরং সংস্থার চলমান কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উন্নয়নে প্রভাবের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, যাচাইবিহীন তথ্যের বিস্তার— প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, জনসাধারণের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।
তদন্তের দাবি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভুয়া অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা, অপপ্রচারের উৎস চিহ্নিত করা, আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা —এই তিনটি বিষয় এখন জরুরি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্যের দ্রুত বিস্তার যেমন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। তাই তথ্য যাচাই ও দায়িত্বশীল ব্যবহার—এই দুই দিকেই গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

