ঢাকাSaturday , 4 April 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পানিসম্পদ মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত জোরদার

Link Copied!

সুনামগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ফসল রক্ষায় ফসল রক্ষা বাঁধ মেরামত ও সংস্কার কার্যক্রমে ব্যাপক কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর সুযোগ্য নেতৃত্বে এ কার্যক্রম নতুন গতি পেয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকরা জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মন্ত্রী সরেজমিনে হাওর এলাকার বিভিন্ন ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি বাঁধ সংস্কার ও মেরামত কাজে গতি আনতে অতিরিক্ত ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। এর ফলে পূর্বের বাজেট ঘাটতির সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত বরাদ্দের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো দ্রুত মেরামত করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের অংশগ্রহণে দিনরাত কাজ করে ইতোমধ্যে সমাপ্ত করা হয়েছে। এতে করে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কৃষকরা আশা করছেন, সময়মতো বাঁধ মেরামত সম্পন্ন হওয়ায় আসন্ন বোরো মৌসুমে আগাম বন্যা বা পাহাড়ি ঢলের ক্ষতি থেকে তাদের ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত ও অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ হাওরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে গত ২৭ ফেব্রুয়ারী পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর এলাকার বিভিন্ন বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‌‌‍হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত ফসল দেশের খাদ্যচাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও কৃষকবান্ধব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব সময় হাওরবাসীর খোঁজখবর রাখছেন এবং তার নির্দেশেই এই পরিদর্শন। মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে বলেন, “অতীতে বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু আমাদের সরকারের সময়ে তা সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হবে। এ বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির অবহেলায় যেন সরকারের বদনাম না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে।”

প্রতি বছর যেন ফসল রক্ষা বাঁধগুলো টেকসই হয়, সে জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও তদারকি বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। ভরাটকৃত খাল ও নদী পুনঃখনন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কৃষিকাজে সহায়ক প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বৈশাখে কৃষকের স্বপ্নের সোনালি ফসল যেন নিরাপদে গোলায় ওঠে, তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের সঠিক তদারকির নির্দেশ দেন তিনি।

অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সংশোধিত কাবিটা নীতিমালা-২০২৩ এর আওতায় জেলার ১২টি উপজেলায় হাওরের বোরো ফসল সুরক্ষায় মোট ৭১৮টি স্কীম গ্রহণ করা হয়। এসব স্কীমের বিপরীতে সমসংখ্যক পিআইসি গঠন করে প্রায় ১৪৮২০.৬৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬০২.২৯৬ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধের মেরামত ও পুনরাকৃতিকরণ কাজ হাতে নেওয়া হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে একযোগে কাজ শুরু হয় এবং শুরু থেকেই উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট পিআইসি সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত তদারকি ও সমন্বয়ের কারণে কাজ বাস্তবায়নে গতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

অর্থায়নের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ১৪৮২০.৬৩ লক্ষ টাকার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৬৭২৭.৮৮ লক্ষ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৪৫.৩৯ শতাংশ বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত এ বরাদ্দের সম্পূর্ণ অর্থ ইতোমধ্যে পিআইসি সমূহের অনুকূলে ছাড় করা হয়েছে, যা মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার করেছে। সময়োপযোগী অর্থ ছাড়ের ফলে অধিকাংশ স্কীমে মাটির কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে ।

তবে মার্চ মাসের শুরুতে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি উপজেলায় হাওরের নিম্নভূমিতে সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যার ফলে হাওরের কিছু এলাকায় স্বল্প সংখ্যক বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় এবং স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অস্থায়ী কাট প্রদান এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে তাৎক্ষণিক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই পানি নেমে যায়। এর ফলে সম্ভাব্য ফসল ক্ষতির ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায় এবং কৃষকদের স্বস্তি ফিরে আসে।

বাপাউবো সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগ-১, এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মামুন হাওলাদার বলেন, সমন্বিত তদারকি, নিয়মিত মনিটরিং এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে অধিকাংশ স্কীমে নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। শুরুতে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সেগুলো দ্রুত কাটিয়ে উঠে কাজ এগিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং যথাসময়ে কাজ সমাপ্ত হয়েছে। বর্তমানে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি সংশোধন করা হচ্ছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, সুনামগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মহোদয় মেরামত কাজের সার্বক্ষণিক তদারকি ও সার্বিক সমন্বয় সাধন করেছেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট জোনের জোনাল প্রধান প্রকৌশলী প্রতিনিয়ত নিবিড় মনিটরিং করেছেন।

এদিকে বাপাউবো, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগ-২, এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হক জানান, হাওর অঞ্চলের বাস্তবতা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকা স্বাভাবিক। তবে স্থানীয় প্রশাসন, পিআইসি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়েছে নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করতে পারায় এর সুফল সরাসরি কৃষকরা ভোগ করবেন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত কাজের মান অতীতের তুলনায় অনেক ভাল হয়েছে এবং সার্বিকভাবে সন্তোষজনক। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি উপজেলায় পৃথক মনিটরিং টিম গঠন করে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে কাজের গুণগত মান বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। কোথাও কোনো ত্রুটি বা ঘাটতি দেখা দিলে তা দ্রুত শনাক্ত করে সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা সামগ্রিক বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, হাওরের বোরো ফসল দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বছর ডুবন্ত বাঁধগুলো কার্যকরভাবে প্রস্তুত থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং ফসল রক্ষার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়েছে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি মৌসুমে হাওরের ফসল ভালোভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, চলতি বোরো মৌসুমে সুনামগঞ্জে প্রায় ২ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ টনেরও বেশি। স্থানীয় কৃষকরা আশা করছেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীর এই পরিদর্শনের পর বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারের কাজগুলো আরও গতিশীল ও টেকসই হবে। সিলেট জোনের পাউবো সূত্রে জানা গেছে, পানিসম্পদ মন্ত্রীর নির্দেশনা ও দ্রুত পদক্ষেপের ফলে সিলেট এবং হবিগঞ্জ পাউবোর আওতায় ফসল রক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ যথাসময়ে সমাপ্ত করা সম্ভব হয়েছে।