মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গতকাল বুধবারের ওই ভাষনে তিনি বলেছেন, ইরান যদি যুদ্ধ শেষের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে চুক্তিতে না আসে, তাহলে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরানো হবে। ইরান যুদ্ধ এখন পঞ্চম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে।
‘প্রস্তর যুগে ফেরানো’ বা ‘ব্যাক টু দ্য স্টোন এজ’ বলতে বোঝায় বোমা বর্ষণ (কার্পেট বোম্বিং), অর্থাৎ অনবরত বোমা বর্ষণ করা যাতে কোনো আধুনিক অবকাঠামো (হাসপাতাল, স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পকলা প্রতিষ্ঠান, হোটেল বা পার্ক) অবশিষ্ট না থাকে।
আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এমন হামলা সম্ভবত গণহত্যার শামিল। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত সত্যিই এটি করার পরিকল্পনা করছে না।
‘প্রস্তর যুগে ফেরানো’, এই অভিব্যক্তিটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন কার্টিস লেমে। তিনি একজন মার্কিন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি শহরগুলোর ধ্বংসযজ্ঞ তদারকি করেছিলেন।
আরও পড়ুন
বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার: সংসদে শিল্পমন্ত্রী
১৯৫০-এর দশকে মার্কিন বাহিনী উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে কার্পেট বোম্বিং চালায়, যার ফলে দেশটির ৯৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ও ৮০ শতাংশ ভবন ধ্বংস হয়। পরে লেমে ভিয়েতনামে একই কৌশল ব্যবহারের পক্ষে যুক্তি দেন।
১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন উত্তর ভিয়েতনামে ‘ক্রিসমাস বোম্বিং’ অভিযান চালান। এ ছাড়াও পাকিস্তানি নেতা পারভেজ মোশাররফের মতে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যদি তারা তালেবানের বিরুদ্ধে না লড়ে, তবে তাদের বোমা মেরে ‘প্রস্তর যুগে’ ফেরানো হবে।

