ঢাকাWednesday , 1 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রোকেয়ার ১৪ শিক্ষকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ

Link Copied!

begum-rokeaরংপুর প্রতিনিধি: নানা জটিলতা ও কালক্ষেপণ শেষে কোনো সুরাহা না হওয়ায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২৭টি প্রশাসনিক পদ থেকে ১৪ শিক্ষকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ (মঞ্জুর) করা হয়েছে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মোর্শেদ উল আলম রনি স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানিয়ে দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, শিক্ষক ও ছাত্ররা সম্মিলিতভাবে কিছু দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত ৯ থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ১৮ জন শিক্ষক মোট ৩৫ টি প্রশাসনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরমধ্যে ৪ শিক্ষক ৮টি পদে তাদের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে দায়িত্বে যোগদান করেন। বাকি ১৪ শিক্ষক ২৭টি পদে তাদের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার না করায় অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে।
অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার মো. মোরশেদুল আলম রনি জানান, পদত্যাগকারী শিক্ষকদের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করার জন্য মৌখিকভাবে অনেকবার এবং লিখিতভাবে সময় দিয়ে তিনবার অনুরোধ জানানো হলেও তারা পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করেন নি। এমনকি শিক্ষক সমিতিও লিখিত বা মৌখিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো কিছুই জানান নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা ও সুষ্টু পরিবেশের স্বার্থে তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে।
যাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন- বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট এবং গণিত, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের পদ (৫টি পদ) থেকে পদত্যাগকারী ড. আর এম হাফিজুর রহমান (সেলিম), কলা অনুষদের ডিন, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট, বাংলা বিভাগের প্রধান ও অর্থ কমিটির পদ (৪টি পদ) থেকে পদত্যাগকারী ড. সাইদুল হক (শিমুল মাহমুদ), পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং লোক প্রশাসন বিভাগের প্রধান পদ (৫টি পদ) থেকে পদত্যাগকারী ড. মোরশেদ হোসেন, সিন্ডিকেট সদস্য ও অর্থ কমিটির সদস্য পদ (২টি পদ) থেকে পদত্যাগকারী ড. সরিফা সালোয়া ডিনা, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রধান ও অর্থ কমিটির সদস্য পদ (২টি পদ) থেকে পদত্যাগকারী রফিউল আজম খান (নিশার), ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সহকারী প্রভোস্ট পদ থেকে পদত্যাগকারী তানিয়া তোফাজ, সাইদুর রহমান ও শেখ মাজেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সহকারী প্রভোস্ট পদ থেকে পদত্যাগকারী ড. শফিকুর রহমান, শরীফুল ইসলাম, কমলেশ চন্দ্র রায় ও আজিজুর রহমান, রসায়ন বিভাগের প্রধান পদ থেকে পদত্যাগকারী এইচ. এম তারিকুল ইসলাম এবং ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পদ থেকে পদত্যাগকারী আলী রায়হান সরকার।
পদত্যাগপত্র গ্রহণ করায় এসব শূন্য পদে তাৎক্ষণিভাবে কাউকে নিয়োগ দেয়া না হলেও অতিদ্রুত নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানান রেজিস্টার।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আর এম হাফিজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার আমাদের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করার কথা ছিল তার আগেই আমাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা পদত্যাগ করার জন্যই পদত্যাগপত্র দিয়েছিলাম।
শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ জানান, আমরা চেয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসুক। এই কারণে আমরা মিটিং করে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আগামী ২ এপ্রিল পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করবো বলে কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়েছিলাম। তার আগেই আমাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হলো। আমরা কিছুটা বিভ্রান্ত। উপাচার্য মহোদয় যদি মনে করেন আমাদের ছাড়া অন্যদের দিয়ে কাজ চলবে তাহলে আমাদের কিছু বলার নেই।
এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরেও তাদের পদত্যাগে অনড় শিক্ষকদের কোনো সাড়া না পেয়ে ৯০ হাজার শিক্ষার্থীর কথা ভেবে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ ও ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে করে তাদের পদত্যাগপত্র মঞ্জুর হলে আমার করার আর কিছু নেই।