নিজস্ব প্রতিবেদক: যৌতুকের দাবীতে ও উচ্চশিক্ষায় বাধার প্রতিবাদ করায় স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। নির্যাতনের শিকার নুসরাত জাহান তুষ্টির স্বামীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছেন তারা। মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষকসহ ঢাবির প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার বেলা ১২টায় ক্যাম্পাসের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। তুষ্টির স্বামী সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা।
মানববন্ধনে ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘আমাদের সমাজ নারী-পুরুষ উভয় নিয়েই গঠিত। এর কোনো একটিকে অবহেলা কিংবা নির্যাতন করে আমরা সমাজে টিকে থাকতে পারবোনা। মেয়েরা আমাদের মায়ের জাতি, বোনের জাতি। তাদেরকে ছাড়া তো আমাদের অস্তিত্বই নেই।’
তুষ্টির স্বামীর বিচার দাবী করে তিনি বলেন, ‘আমরা তুষ্টির স্বামীর সর্বোচ্চ বিচার দাবী করছি। এজন্য আমরা ভিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করবো, তাকে একাডেমিক কোন শাস্তির আওতায় আনা যায় কিনা তা ভিসি স্যার দেখবেন। তিনি যেহেতু সেনাবাহিনী কর্মকর্তা, সুতরাং আমাদের দাবী অবিলম্বে তাকে সাসপেন্ড করা হোক। এ ধরনের ব্যক্তিরা সেনাবাহিনীর মানসম্মান নষ্ট করছেন।’
ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক কাজী রায়হান উদ্দীন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চল্লিশ হাজারোর্ধ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীরা তুষ্টির পাশে আছে। আমরা ভিসি স্যারের কাছে যাবো। নির্যাতনকারী জানোয়ারটির শাস্তির দাবীতে প্রয়োজনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছেও যাবো।’
মানববন্ধন শেষে উপস্থিতরা মিছিল নিয়ে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করতে যায়। মিছিলে পাষণ্ড স্বামীর শাস্তির দাবীতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ৩০ শে মার্চ যৌতুকের দাবীতে ও উচ্চশিক্ষায় বাধা দেয়ার প্রতিবাদ করায় স্বামী ও তার পরিবার কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নুসরাত জাহান তুষ্টি। তিনি ব্যবস্থাপনা বিভাগের (এম.বি.এ) ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

