ঢাকাMonday , 30 March 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গভীর সঙ্কটে এলজিইডি
প্রধান প্রকৌশলীর পদ নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড!

Link Copied!

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সৃষ্টি থেকেই (এলজিইডি) দেশের গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু বিগত স্বৈরশাসকের আমলে এই প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের ব্যানারে কতিপয় প্রভাবশালী প্রকৌশলীরা ভয়াবহভাবে দাপট খাঁটিয়ে আখের গুছিয়েছেন। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বড় বড় প্রকল্প বাগিয়ে দেশের সম্পদ লুটপাট করেছেন। লুটপাট করে নানা অভিযোগ নিয়ে অনেকেই অবসরে চলে গেছেন। যে কারণে আলোচনা থেকে অনেকটা আড়ালে রয়েছেন তারা। দেশ স্বৈরাচার মুক্ত হলেও তাদের দোসর বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের প্রকৌশলী কিংবা প্রকল্প পরিচালকরা এখনও রয়েছেন বহাল তবিয়তে। আবারা যারা ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এদের মধ্যে অনেকেই ৫ আগষ্টের পর এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে কয়েকটি বড় বড় প্রকল্প বাগিয়ে নিয়েছেন। এভাবে যখন যে সরকার আসে সেই সরকারের দোসররা ভাগবাটোয়ারায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ছলে বলে কৌশলে বড় বড় প্রকল্প বাগিয়ে নিতে রাজনৈতিক রঙ ব্যবহারে তারা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন।

তবে আশঙ্কার কথা হচ্ছে আওয়ামী দোসররা এখনও বেশ সক্রিয়। এরই মধ্যে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর পদ নিয়ে চলছে ভয়াবহ লঙ্কাকান্ড। এ ঘটনায় রীতিমত অবাক হয়েছেন দেশের সচেতনমহল। ৬ মাস পূর্বে পিআরএলএ (অবসরোত্তর ছুটি) যাওয়া প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়াকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপ-সচিব মোঃ গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। উক্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী মোঃ আব্দুর রশীদ মিয়াকে তার অভোগকৃত অবসরোত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্তগিত এবং অন্য যে কোন পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ হতে ১ বছর মেয়াদে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো। এই প্রজ্ঞাপন জারির পর দেশজুড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহলের নজরে আসলে গত ২৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপ-সচিব গোলাম রব্বানীর স্বাক্ষরে উক্ত চুক্তি বাতিল করা হয়। সূত্র জানায়, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়া গত ০১/০৯/২০২৫ ইং তারিখ থেকে অবসরোত্তর (পিআরএল) ছুটিতে রয়েছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, ৬ মাস পূর্বে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া একজন সাবেক প্রধান প্রকৌশলীকে কেন এলজিইডিতে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। যা নিয়ে দেশব্যাপী এক তুলকালাম কাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে এই নিয়োগের ফলে তাদের দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক মতানৈক্যেরও সৃষ্টি হয়। অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তারা বলছেন, এ দায় কার? এতে যেমন অতিগুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থা এলজিইডির ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে তেমনি নবগঠিত সরকারেরও ভাবমূর্তি সঙ্কটে পড়েছে। এ নিয়ে নানা মহলে চলছে এখনও তীব্র সমালোচনা। সূত্র জানায়, গত ১৪ জানুয়ারী স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উন্নয়ন শাখা-১ এর উপ-সচিব আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা উইংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেনকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেনকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব অর্পন করা হয়।

চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মোঃ বেলাল হোসেনের আগামী ৩১ আগস্ট পিআরএলএ যাবার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে নতুন করে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়া সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুর রশীদ মিয়াকে চুক্তিভিত্তিক এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে এলজিইডিতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সচেতন প্রকৌশলীরা দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় যেহেতু শীর্ষ অভিভাবক সেহেতু যাচাই বাছাই ছাড়াই মন চাইলেই এভাবে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন না। তুমুল সমালোচনার মুখে মাত্র ৫ দিনের মাথায় এ ধরনের একটি নিয়োগ বাতিল করায় এলজিইডির ভাবমূর্তি নিয়ে দেশ বিদেশেও চলছে ব্যাপক সমালোচনা। মন্ত্রণালয়েরও জবাবদিহিতা রয়েছে বলে তারা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন’। এতে এলজিইডির চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেন।

গভীর সঙ্কটে এলজিইডি

দেশের গ্রামীণ জনপদের অবকাঠামো উন্নয়নে যে প্রতিষ্ঠানটির অর্জন আকাশচুম্বী সেই প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলীর পদটি এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়। সূত্রমতে, এলজিইডিতে বর্তমানে ৯ জন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কর্মরত রয়েছেন। এরই মধ্যে সিনিয়রিটি (জ্যেষ্ঠতা) এখনও নির্ধারণ করা যায়নি। যে কারণে ৯ জন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর মধ্যে পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলীর পদ নিয়ে চলছে ব্যাপক দৌঁড়ঝাপ। এরা অনেকেই বিগত সরকারের দুর্নীতিবাজ এলজিআরডি মন্ত্রী মন্ত্রীদের পদলেহন করেছেন। কিন্তু এখন তাদের কেউ কেউ বিএনপি ঘরনার প্রকৌশলীও দাবী করছেন। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে সিনিয়রিটি (জ্যেষ্ঠতা) নির্ধারণ করা না গেলে পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে প্রকৌশলরীরা আশঙ্কা করছেন।