ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
ট্রাম্প যদি ইরান যুদ্ধে জিতেই থাকেন তবে অন্য দেশের সাহায্য কেন চাচ্ছেন
ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন এ সুপারিশ করে। তাদের সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিবেশ ক্রমশ খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, উপাসনালয়ে আক্রমণ এবং বিভিন্ন ধরনের আইনি চাপ বৃদ্ধির বিষয়টি কমিশন উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেছে।
ভারতকে বিশেষ উদ্বেগজনক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেন ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে।
একই সঙ্গে সুপারিশ করা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সম্পদ জব্দ করা এবং সংগঠনের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
প্রতিবেদনে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, সংস্থাটির কিছু কর্মকাণ্ড ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ভারতের একাধিক গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে খবর প্রকাশ হয়েছে।
দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, মার্কিন কমিশনের প্রতিবেদনে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কমিশন মনে করছে ভারতে ধর্মীয় সহনশীলতার পরিবেশ আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বেশ কিছু ঘটনার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্রে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবিতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহিংস আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা।
কমিশনের মতে, এসব ঘটনায় ধর্মীয় উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এ ছাড়া গত বছরের জুন মাসে ওডিশা রাজ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর হামলায় কয়েকটি খ্রিষ্টান পরিবারের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যরা জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে,ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জোরপূর্বক ধর্মান্তর রোধের নামে কঠোর আইন তৈরি করা হয়েছে। এসব আইনে অনেক ক্ষেত্রে কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
কমিশনের মতে, এসব আইনের প্রয়োগে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নাগরিকত্ব যাচাই ও নজরদারির নানা উদ্যোগের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
তবে ভারতের সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অতীতে এ ধরনের প্রতিবেদনকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করেছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিতর্কের কারণে ভারতের তৎকালীন রাজনীতিক এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরে এক সময় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
মার্কিন কমিশনের এই নতুন প্রতিবেদনের পর আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

