যশোর প্রতিনিধি: উপাচার্যের পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে ছাত্রলীগের ব্যানারে করা শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভে অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি)।
শনিবারের পর রোববার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সমাবেশ করলে আবার অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এপরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সভায় মিলিত হতে যাচ্ছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যবিপ্রবি জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক হায়াতুজ্জামান মুকুল।
সূত্র মতে, যবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলেও গত বছর ১৬ মে সুব্রত বিশ্বাসকে সভাপতি ও এসএম শামীম হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হয়।
এনিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ। এর জের ধরে গত বছর ১৪ জুলাই খুন হন ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ। এ ঘটনায় ১৩ সেপ্টম্বর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে স্থায়ী বহিস্কার করে যবিপ্রবি প্রশাসন।
এ ছাড়া পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ফয়সাল তানভীর দুই বছর ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ছাত্র আজিজুল ইসলামকে এক বছরের জন্য বহিস্কার করা হয়। এরমধ্যে চলতি বছরের ২৪ মার্চ যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জামিনে মুক্তি পান। এর তিন দিন পর ২৮ মার্চ তাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রলীগ।
এদিকে, বিক্ষোভ মিছিল করায় এদিন তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ ছাত্রকে বহিস্কার করা হয়। গণমাধ্যমে এখবর প্রকাশ হলে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের ব্যানারে তারা রোববার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি সঞ্জয় ব্যানার্জী বাপ্পা জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে শনিবার তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিক্ষোভ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ দাবি বিবেচনায় নিতে আল্টিমেটাম দেন। এরপর বিকালে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন ১০ শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করা হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরও ক্ষুব্ধ হন। এরজন্য এখন তারা উপাচার্যের পদত্যাগসহ পূর্বের দাবিগুলো মেনে নিতে বিক্ষোভ করছেন।
এদিকে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের এ বিক্ষোভের মুখে যবিপ্রবি ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘোলাটে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে রোববার সন্ধ্যায় মিটিং আহ্বান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
যবিপ্রবি জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক হায়াতুজ্জামান মুকুল জানান, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মিটিং আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেবে উভয় প্রশাসন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাস এবং হল বন্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

