গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ন্যাটো বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনায় ট্রাম্প বিরোধিতা করলে মার্কিন কোম্পানি গুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় ন্যাটোর একটি সম্ভাব্য মিশন গঠনের বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মিত্ররা আলোচনা চালাচ্ছে। এই উদ্যোগে বাধা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে ইইউ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট ইউরোপীয় সহযোগীদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। এর লক্ষ্য আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যাটোর উপস্থিতি জোরদার করা। ইতোমধ্যে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জার্মানি ও ফ্রান্সসহ একাধিক ইউরোপীয় দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ন্যাটোর জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা একটি সম্ভাব্য মিশনের কাঠামো প্রস্তুত করছেন, যার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েন করা হতে পারে। যদিও পরিকল্পনাগুলো এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে ইউরোপীয় দেশগুলো আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে বড় হুমকি হিসেবে দেখছে। তাদের ধারণা, ন্যাটোর দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়ালে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা থেকে সরে আসতে পারেন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়ে বলেছিলেন,যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ না নিলে রাশিয়া বা চীন দ্বীপটিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, আমরা রাশিয়া বা চীনের প্রতিবেশী হতে দিতে পারি না।
গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। তামা, নিকেল এবং আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অপরিহার্য বিরল মাটির খনিজের মজুত থাকায় অঞ্চলটি বৈশ্বিক শক্তিগুলোর কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারি সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যের লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের হুমকিকে ‘গুরুত্ব সহকারে’ বিবেচনা করছেন এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত হয়েছেন।
এক ব্রিটিশ সরকারি সূত্র টেলিগ্রাফকে বলেন,আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি বিষয়ে একমত- উত্তরাঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। এই আগ্রাসন প্রতিহত করতে হবে এবং ইউরো-আটলান্টিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে হবে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,ন্যাটো মোতায়েনের প্রস্তাব ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করলে ইইউ মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে।
এতে মেটা, গুগল, মাইক্রোসফট ও এক্সের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইউরোপে কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে। একই সঙ্গে আমেরিকান ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। সবচেয়ে কঠোর বিকল্প হিসেবে ইউরোপ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইউরোপীয় ঘাঁটিগুলোর ব্যবহার মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে যেতে পারে।

