ঢাকাSaturday , 28 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মওকা’র জ্বালায় বিসিসিআই’র ফোন বন্ধ!

Link Copied!

sportsস্পোর্টস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৯৫ রানের লজ্জাজনক পরাজয়ে সেমিফাইনাল থেকেই ভারতের বিদায়। শুধু বিদায়ই নয়, একই সঙ্গে দর্পও চূর্ণ হয়েছে ভারতীয়দের। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ যেই আসুক সামনে, তাদেরকে অপমান করা যেন তাদের একটা অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। প্রতিটি দলকেই ‘মওকা মওকা’ সঙ্গীত দিয়ে অপমান করেছে তারা। শেষ পর্যন্ত আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মওকা লাভ হলো না। মুখে চুন-কালি মেখে ধোনিদের বাড়ির পথ দেখিয়ে দিল মাইকেল ক্লার্করা।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের হারে অস্ট্রেলিয়ানদের চেয়েও যেন বেশি খুশি হয়েছে বাংলাদেশ। এ দেশের ৯৯ ভাগ মানুষই সিডনির সেমিফাইনালের দিন ছিল অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে। ভারতের হারের পর তো টিএসসিতে মিছিল হয়েছে। অনেক জায়গায় মিষ্টি বিতরণের ধুম পড়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশের মত খুশি হয়েছিল পাকিস্তানের মানুষও। অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে পাকিস্তানের বিদায় ঘটলেও, সিডনির সেমিফাইনালে তারাও ছিল ভারতের বিপক্ষে।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে চোখের জলে ‘মওকা’ বিদায় নেওয়ার পর বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) হেডকোয়ার্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পরদিন বিসিসিআইর ল্যান্ডফোনে অল্প সময়ের মধ্যে অন্তত ২০০ বার কল আসে। কল রিসিভ করলেই অপরপ্রান্ত থেকেই গাওয়া শুরু হয় ‘মওকা মওকা, কেয়া হুয়ে মওকে কা? (কী হলো তোমাদের ‘মওকার’)।
বিজ্ঞাপনটা বানিয়েছিল স্টার স্পোর্টস টিভি চ্যানেল। অ্যাডিলেডে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে। বিশ্বকাপে ভারতকে এখনও পর্যন্ত হারাতে পারেনি পাকিস্তান। ওই সময়ই মজা করে ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপনটি বানিয়েছিল টিভি চ্যানেলটি। তবে, বিজ্ঞাপন প্রচারের পরই পাকিস্তানিরা এর সমালোচনা করেন, তাদেরকে অপমান করা হয়েছে বলে। তবে স্টার স্পোর্টস সেখানেই থেমে থাকেনি। ভারতের প্রতিপক্ষ যেই হয়েছে, তাদের নিয়েই ‘মওকা মওকা’ বিজ্ঞাপন বানিয়েছিল তারা। এরপরই এটা ভারতীয়দের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। যেটা বাংলাদেশের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে মাত্রা হারিয়ে বসে।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারতের হারের পর বিসিসিআই সদর দপ্তরে আসা কলের পর কল এবং অপর প্রান্ত থেকে ‘মওকা’ শুনতে শুনতে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে যায় বিসিসিআই হেডকোয়ার্টারের কর্মচারিরা। শেষ পর্যন্ত বিরক্তিকর এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে ওই দিনের জন্য তারা ল্যান্ডফোনের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বিসিসিআইর সদস্য সচিব ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘বিসিসিআই হেডকোয়ার্টারের ফোন নাম্বার আমাদের ওয়েবসাইটে রয়েছে। সেখান থেকে যে কেউ সহজে নাম্বারটি সংগ্রহ করে নিতে পারছেন। আর আমাদের হারে বিরোধীদের অনেকেই খুশি হয়ে এই কাজটি করছেন। একের পর এক এমন কলের কারণে আমরা বিরক্ত হয়ে যাই এবং শেষ পর্যন্ত লাইনটি বিচ্ছিন্ন করে দিই। স্টার স্পোর্টস কর্তৃক প্রচারিত বিজ্ঞাপনকি খুবই জনপ্রিয়তা পায়। কিন্তু সেটা এভাবে আমাদের বিরক্ত করার জন্য ব্যাবহার করা হবে তা সত্যি দুঃখজনক।’
শুক্রবার বিকাল ৪টায় বিরক্তিকর কল আসতে শুরু করে। বিসিসিআইর সদস্য সচিব বলেন, ‘টেলিফোন কোম্পানিকে দিয়ে আমরা ওই সব কলগুলো কোথা থেকে আসছে জানার চেষ্টা করি। যে তথ্য এসেছে আমাদের হাতে, তাতে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ কলই এসেছে বাংলাদেশ থেকে। বাকিগুলো এসেছে পাকিস্তান থেকে।’
বিসিসিআই অফিসের কর্মকর্তারা বলেন, ‘ভারতের ম্যাচ থাকলে অনেক ফোনই আসে টিকিটের জন্য। টিকিট না পেলে অনেকে সমালোচনাও করেন ফোন করে। কিন্তু এই প্রথম দেখলাম দেশের বাইরে থেকে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সকে ব্যাঙ্গ করে কল করা হলো আমাদের এখানে।’